বারাকপুর: দিলীপ ঘোষের সফরের আগেই উত্তেজিত উত্তর ২৪ পরগনার নিউ বারাকপুর। তৃণমূল কর্মীদের বিশৃঙ্খলা ও বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় ভন্ডুল হয়ে গেল বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক কর্মসূচি। গোটা ঘটনার জেরে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার নিউ বারাকপুরের বোদাইঘোষপাড়া এলাকা। এই ঘটনায় ১২ জন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে।

কলকাতা উত্তর শহরতলীর সভাপতি কিশোর কর বলেন, “রাজ্যে তিনটি বিধানসভা উপ নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জয় পায়, তারপর তারা বোদাই ঘোষ পাড়া এলাকায় বিজয় মিছিল করে। সেই বিজয় মিছিল থেকে ওরা আমাদের দলের কর্মী বাটুল ঘোষের বাড়িতে হামলা করে, ওই এলাকার ১৭৯ নম্বর বুথে আমাদের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে। দলের মহিলা কর্মীদের হেনস্থা করা হয়।” এই ঘটনা শুনে আমাদের দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ঘটনাস্থলে আসার কথা জানান।

সেই ঘটনার পরই দিলীপ বাবুর জন্য আমরা অপেক্ষায় ছিলেন দলের কর্মীরা। হঠাৎই কিছু তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাঁশ, কালো পতাকা, অস্ত্র নিয়ে রাস্তার পাশে জড়ো হয়ে আমাদের কর্মীদের মারধর করছে এবং বিজেপি বিরোধী স্লোগান দিচ্ছে। আমরা নিরস্ত্রভাবে দিলীপ ঘোষকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলাম। আমাদের ওপর ওই দুষ্কৃতীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাদের দলের কর্মীদের মারধর করে এবং আমাদের উপর ইঁট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ জানানো হয় যে এই ঘটনা পুলিশের সামনেই ঘটেছে। পুলিশ একটু সক্রিয় হলে ওই দুষ্কৃতীদের ধরা সম্ভবকর হত।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সব রাজনৈতিক দলই তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে প্রায় ১২ জন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে দিলীপ ঘোষের কর্মসূচি বাতিল করে দেয়। দলের নিরস্ত্র কর্মীদের মারা হয়েছে বলেই দল সূত্রে জানা গিয়েছে।

তৃণমূল ব্লক সভাপতি তথা স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী সুপ্রিয়া ঘোষ জানিয়েছে, “দিলীপ ঘোষ আসতেই পারে। তবে ওদের দলের কর্মীরা বিলকান্দা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের সামনে লাঠি বাঁশ নিয়ে কেন জড়ো হয়ে ছিল। ওরা কি শক্তি দেখাতে চাইছিল? আর বিজেপির যে পার্টি অফিস ভাঙার কথা বলা হচ্ছে, সেটা ওদের গোষ্ঠী কোন্দলের ফল। তৃণমূল ওদের উপর হামলা করেনি। দিলীপ ঘোষের নাটক এখানে চলবে না। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কালো পতাকা নিয়ে উনার নামে গো-ব্যাক স্লোগান দিচ্ছিলাম। ওরা লাঠি হাতে নিয়েছিল, তারই প্রতিবাদ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। আমাদের শান্ত এলাকাকে অশান্ত হতে দেব না। বাইরে থেকে কেউ অশান্তি পাকাতে আসলে আমাদের দলের কর্মীরা রুখে দাঁড়াবে।”

এদিকে এদিন বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার সময় অন্তত ২০টি মোটর বাইক ও বেশ কিছু সাইকেল ভাঙচুর করে দুষ্কৃতীরা। বিজেপি ও তৃণমূলের এদিনের সংঘর্ষ থামাতে নিউ ব্যারাকপুর ও ঘোলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যপক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এই ঘটনায় নিউ ব্যারাকপুর থানার পুলিশ ৩ দুষ্কৃতিকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে। তবে দুষ্কৃতীদের রাজনৈতিক পরিচয় জানাতে চায়নি পুলিশ। এই ঘটনার জেরে নিউ ব্যারাকপুরের ঘোষপাড়া এলাকা দিনভর উত্তপ্ত ছিল। উত্তেজনার জেরে নিউ ব্যারাকপুরের সোদপুর মধ্যমগ্রাম রোডে পুলিশি টহল চলছে।