স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে ঘর ভাঙলো বিজেপির। শুক্রবার তৃণমূলে ফিরলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বিজেপি নেতা বিপ্লব মিত্র ও তার ভাই প্রশান্ত মিত্র। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার এক বছরের মধ্যেই কেন ‘ঘর ওয়াপসি’ হলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রভাবশালী, সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ওঁ নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। কিন্তু সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। অনেক কর্মী মার খাচ্ছেন। বিরোধীদের এরাজ্যে কী অবস্থা তা তিনি উপলব্ধি করলেন।”

প্রসঙ্গত, তৃণমূলের প্রথম দিন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী পোড়খাওয়া রাজনীতিক বিপ্লব মিত্র। দীর্ঘদিন সামলেছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সভাপতির পদ। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত মজুমদারের কাছে পরাজিত হন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী, নাট্যব্যক্তিত্ব অর্পিতা ঘোষ। এই পরাজয়ের জন্য বিপ্লব মিত্র ও তাঁর অনুগামীদের দায়ী করেন অর্পিতা।

বিপ্লবকে জেলা সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন বিপ্লব মিত্র ও তাঁর ভাই প্রশান্ত মিত্র। প্রশান্ত ছিলেন গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান।সঙ্গেই বিজেপিতে গিয়েছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি, একঝাঁক জেলা পরিষদ সদস্য, কাউন্সিলর এবং পঞ্চায়েত সদস্য।

শুক্রবার তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিপ্লব মিত্র বলেন, “১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম। আমাকে দিদি উত্তরবঙ্গে নানা দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমাকে জেলার সভাপতি করা হয়েছিল। ঘাত-প্রতিঘাতে দল করেছি। যে কোনও কারণে মাঝে বিচ্যুত হয়েছিলাম। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে সারা দিয়ে আমার ভাই ও আমি আমাদের ঘরে ফিরে এলাম। আমাদের একটাই লক্ষ্য দলকে শক্তিশালী করা। আবার চেষ্টা করব পার্টিকে সংবদ্ধ করে ষড়যন্ত্রের সঠিক জবাব দেব।”

তবে বিপ্লব মিত্র তৃণমূলে ফেরায় দলের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না বলে শুক্রবারই দাবি করেছেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। তিনি বলেছেন, “বিপ্লব মিত্র তৃণমূলে যোগ দিলেও বিজেপির তেমন কোনও ক্ষতি হবে না। প্রথমত তিনি কোনও সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন না। তাছাড়া সেভাবে দলের কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত থাকতেন না।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ