সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : মিমের ভোট কাটাকুটি নিয়ে জোর লড়াই চলছে বাংলার রাজনীতিতে। তৃণমূলের দাবি বিজেপিকে সাহায্য করতেই এই রাজ্যে আগমন আসাউদ্দিন ওয়াইসির দলের। যেমনটা হয়েছে বিহারের ভোটে। তেমন আবার বিজেপির সুর অন্য। তারা আবার এই দাবী মানতে নারাজ। এসবের মধ্যেই মিমের পক্ষে সুর তুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

হাওড়ার এক সভায় তিনি বলেন, ‘মিমের এখানে দল গঠন করার অধিকার আছে। হায়দরাবাদের মিম নেতা আসাউদ্দিন ওয়াইসির এরাজ্যে সংগঠন করার অধিকার আছে। দিদি যদি সংখ্যালঘুদের এতোই উন্নয়ন করে থাকেন তাহলে তাহলে এতো ভয় পাচ্ছেন কেন?” — মঙ্গলবার হাওড়ার পাঁচলার যুব সমাবেশ থেকে আব্বাস সিদ্দিকীর দলগঠন প্রসঙ্গে এভাবেই চড়া গলায় রাজ্যের শাসকের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায় এই কথা মিমের তালে তাল দেওয়ার মতোই অর্থাৎ মিমের পক্ষ নেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে কারন রাজনৈতিক অঙ্ক বলছে ২০২১ ভোটে মিম যদি সত্যিই বেশিরভাগ আসনে তাদের প্রার্থী দেয় এবং তলে তলে দেবী অনুযায়ী তাদের সংগঠন যদি এতটাই বড় হয়ে থাকে তাহলে তা আখেরে লাভ বঙ্গ বিজেপি’রই। তাই হয়তো………

গ্রামীণ হাওড়ার পাঁচলার ধামসিয়ায় জাতীয় সড়ক সংলগ্ন সার্ভিস রোডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এদিন দিলীপ ঘোষ আরও বলেন,”ভিন রাজ্য থেকে কেউ বাংলায় এলে তাঁদের বহিরাগত তকমা দেওয়া হচ্ছে। অথচ এ রাজ্য থেকে কেউ অন্য রাজ্যে গেলে তাঁদের বহিরাগত বলা হয় না। এটা বাংলার লজ্জা!” তিনি আরও বলেন,”বিজেপি মুসলিম বিরোধী নয়। এই সাড়ে ছ’বছরে কোনও সংখ্যালঘুদের এই দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়নি। বাংলার মুসলমানদের পুলিশ কেস ও ভয় দেখিয়ে রাখা হয়েছে।” বাংলায় মুসলমানদের উন্নয়ন করতে দেয়া হয়নি, শিক্ষা-দীক্ষায় তাঁদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মেদিনীপুরের সাংসদ।

হাওড়া গ্রামীণ জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, এদিনের সমাবেশে বহু কর্মী-সমর্থক ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে বিজেপিতে যোগদান করেন। দিলীপ ঘোষ ছাড়াও যুব সমাবেশে উপস্থিত ছিল রাজ্য বিজেপির নেতা জয় ব্যানার্জী, বিজেপির রাজ্যনেতা অনুপম মল্লিক, হাওড়া গ্রামীণ জেলা বিজেপির নবনিযুক্ত সভাপতি প্রত্যুষ মন্ডল, হাওড়া সদর বিজেপির সভাপতি সুরজিৎ সাহা সহ অন্যান্যরা। অন্যদিকে, আগামী শনিবার একই জায়গায় বিজেপির যুব সমাবেশের পাল্টা সভার ডাক দিল হাওড়া গ্রামীণ জেলা তৃনমূল কংগ্রেস। শনিবারের পাল্টা সভা থেকে দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের জবাব দেওয়া হবে হাওড়া গ্রামীণ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত দিন তিনেক আগেই সৈয়দ আসাউদ্দিন ওয়েইসির দল মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম)-এ বড়সড় ভাঙন ধরায় তৃণমূল৷ এআইএমআইএমের যুব দলের রাজ্য সভাপতি সফিউল্লাহ খানের পর তৃণমূলে যোগ দেন পশ্চিমবঙ্গ মিমের কার্যকরী সভাপতি তথা রাজ্যের সাংগঠনিক প্রধান শেখ আবদুল কালাম।

দল পরিবর্তনের পর বিজেপি–র নাম না করে রাজ্যের বিরোধী দলকে ‘‌বিষাক্ত হাওয়া’‌ বলে আক্রমণ করেন শেখ আবদুল কালাম। তিনি বলেন, ‘‌আমরা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে একটা শান্তির বাতাবরণের আবহাওয়া দেখে এসেছি। হঠাৎ করে একটা বিষাক্ত হাওয়া আমাদের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলে চলেছে। যা আমাদের ক্ষেত্রে অতি ভয়াবহ। তাই আমরা সব কিছু ভুলে এক হয়েছি এই বিষাক্ত হাওয়াকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্মূল করার জন্য।’‌

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।