কলকাতা: হাইকোর্টের ভৎসনা প্রসঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের সমালোচনা করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ দুই উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারকে ‘দাগী’ বলে সম্বোধন করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি৷ এছাড়া শনিবার মহাজ্যোতী সদনে হওয়া রাজ্য বিজেপির স্বাস্থ্য ও পরিষেবা সেলের একটি অনুষ্ঠানে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা উল্লেখ করে সরকারের সমালোচনাও করেন দিলীপ বাবু।

শনিবার রাজ্য বিজেপি সভাপতিকে রাজ্যের দুই উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারকে হাইকোর্টের তিরস্কার নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল৷ নাম না করে তিনি জানিয়েছেন যে, একজনের বিরুদ্ধে সারদা কেলেঙ্কারির নথি লোপাটের অভিযোগ করেছে, অন্যজন অর্থ নয়ছয়ের সঙ্গে৷ রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে আক্রমণ করে তিনি বলেছেন, ‘‘সরকার যতবার কোর্টে গিয়েছে, থাপ্পর খেয়েছে৷’’ রাজের পুলিশ অফিসারদের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নেই বলেও দাবি করেন দিলীপ ঘোষ৷ শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে আরএসএস সভা সংক্রান্ত হলফনামা কলকাতা হাইকোর্টে পেশ করেছিলেন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার৷ কিন্তু তাঁর পেশ করা হলফনামার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন খোদ বিচারপতি৷ শুক্রবার পেশ করা হলফনামায় নগরপাল রাজীব কুমার দাবি করেছিলেন, আরএসএস-এর সভার সময় গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি৷ তাই জয়েন্ট সিপিকে সভার অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি দেখান দায়িত্ব দেন৷ প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ বিচারপতি জানিয়েছিলেন যে, সিপি গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তার প্রমাণ কোথায়? এমনকি চার সপ্তাহের মধ্যে সেই প্রমাণ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি৷

অন্যদিকে সবংয়ের গাছ কাটা নিয়ে শুক্রবার একই দিনে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ কমিশনার ভারতী ঘোষকে ভৎসনা করেছিলেন প্রধান বিচারপতি৷ রাস্তা তৈরির জন্য বন দফতরকে না জানিয়ে ১১০৫টি গাছ কাটা হয়েছিল৷ ফলে পঞ্চায়েত প্রধানকে ৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা করে বন দফতর৷ কিন্তু টাকা না পেয়ে প্রথমে পুলিশে ও পরে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়৷ শুক্রবার এই মামলায় হাইকোর্টে হাজিরা দিয়েছিলেন এসপি ভারত ঘোষ৷ রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের তদন্ত নিয়ে খুশি হয়নি আদালত৷ চার সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট৷

শনিবার মহাজ্যোতি সদনে রাজ্য বিজেপির স্বাস্থ্য ও পরিষেবা সেলের অনুষ্ঠানে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা অবনতির দিকে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি সভাপতি৷ তিনি জানিয়েছেন, ‘‘ শুধুমাত্র হাসপাতালের রঙ পরিবর্তন হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর শাড়ির রঙে হাসপাতাল সেজে উঠেছে৷’’ তাঁর অভিযোগের তীর রাজ্যের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলির দিকেও৷ তিনি জানিয়েছেন যে, কোনও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলিতে পরিষেবা নেই৷ এছাড়া কড়া ভাষায় শুক্রবার রাজ্য সরকারের পেশ করা বাজেটেরও সমালোচনা করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.