নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গ জিএসটি থেকে সব থেকে বেশি লাভবান হয়েছে৷ কিন্তু দিনরাত জিএসটির বদনাম করতে লেগে রয়েছে৷ সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ৷ মঙ্গলবার দিলীপ বলেন, ‘‘রাজ্যেই সব থেকে বেশি জিএসটির সমালোচনা করা হয়েছে৷ কিন্তু জিএসটি থেকে লাভ সব থেকে বেশি পশ্চিমবঙ্গই পেয়েছে৷ আসলে সবই রাজনৈতিক৷ এখনতো মাথাও ঠিক নেই৷ মাথা আগে ঠিক হোক৷’’ কার মাথা ঠিক নেই তা মুখে না বললেও ইঙ্গিত যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই, তা অনেকেই বলছেন৷

মোদী সরকারের আমলে জিএসটিকে রূপায়িত করা হয়েছে৷ কিন্তু জিএসটির ধারণা অনেক আগেই ভারতে এসে গিয়েছিল৷ দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আমলেই জিএসটি বা এক দেশ এক কর ব্যবস্থার ধারণা নিয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়৷ গঠিত হয় জিএসটি কাউন্সিল৷ প্রথম চেয়ারম্যান তৎকালীন বাংলার অর্থমন্ত্রী অসীম দাসগুপ্ত৷ এরপর চেয়ারম্যান হল বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদী৷ রাজ্যের বর্তমান অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রও এই কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন৷

জিএসটি চালু হওয়ার পর এই কর ব্যবস্থার রূপায়ণের উপর প্রশ্ন তুলে বিরোধীতা করতে থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অমিত মিত্র বারবার দাবি করেন, রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুণ্য হবে৷ পরবর্তিকালে, নির্বাচনী প্রচারে মমতা দাবি করেন, জিএসটি দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে৷ ছোট ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ কংগ্রেসের তৎকালীন সভাপতি রাহুল গান্ধী জিএসটিকে ‘গব্বর সিং ট্যাক্স’ বলতে থাকেন৷ কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটির কয়েকটি স্ল্যাব-এর পরিবর্তন করেছে৷ তবে জিএসটি নিয়ে বিতর্ক লোকসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল৷