স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সংসদ ভবন থেকে পিঠ দেখিয়ে পালিয়েছিল তৃণমূল। আর্টিকেল 370 এর বিপক্ষে ভোট পড়েছিল মাত্র সত্তর টি। জানালেন দিলিপ ঘোষ।

রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চা আয়োজিত কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ বলেন, “দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ যে কুশলতার সঙ্গে সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিয়ে জানিয়েছেন আর্টিকেল 370 দেশের মধ্যে বিচ্ছেদ তৈরি করছে। এখন আর এর কোনও দরকার নেই। তারপর কোনও প্ৰশ্ন ছিল না।”

এরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রসঙ্গ তোলেন দিলীপ। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের মতো কিছু আঞ্চলিক দল আর্টিকেল 370 নিষ্ক্রিয়করণকে রাজনৈতিক স্বার্থে সমর্থন বা বিরোধ, কিছুই করেন নি। তারা সংসদ থেকে ভোট না দিয়ে পিঠ দেখিয়ে পালালেন। আর্টিকেল 370 এবং 35A নিয়ে তৃনমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ২৪ ঘন্টা পর নীরবতা ভেঙে নিজের বক্তব্য জানিয়েছিলেন।

তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভার ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি। কিন্তু কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়নকে সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। রাজ্যসভায় তৃণমূলকে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করতেও দেখা গিয়েছে। সার্বিকভাবে ধরে নেওয়া হয়েছিল যে এই দুটি আর্টিকেলের বিরোধী তৃণমূল।

কিন্তু, মমতা নিজেই নীরবতা ভেঙে বলেছেন, বিলের ‘মেরিট’ নিয়ে প্রশ্ন নেই। পদ্ধতি নিয়ে রয়েছে। কিন্তু মমতা বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, এতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে কেন একটি শব্দও কেন খরচ করলেন না মমতা । কেন ২৪ ঘন্টা পর প্রথম প্রতিক্রিয়া দিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনেকেই বলছেন, লোকসভা নির্বাচনটি পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতির ‘গেমপ্ল্যান’ পরিবর্তন করেছে। এখন অন্ধ বিজেপি বিরোধিতায় নামতে চাননা নেত্রী। ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোর ও একই পরামর্শ দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। 370 এবং 35A কে কাজে লাগিয়ে মোদী সরকার সারা দেশে জাতীয়তাবাদের ঝড় তুলে দিয়েছে। সেখানে, আপ, টি আর এস, টিডিপি, বহুজন সমাজ পার্টি এর মত বিরোধীরাও মোদীর সঙ্গী।

সেখানে নিছক বিরোধিতার জন্যই এই কাজ তৃণমূলকে বিপদে ফেলতে পারে বলে মনে করেছেন নেত্রী। তৃনমূল সাংসদরা রাজ্য সভায় 370 এবং 35A এর সমর্থনে ভোট দিয়ে বিজেপি তৃণমূলকে জাতীয়তাবাদ বিরোধী পার্টি বলার সুযোগ পেত। লোকসভা নির্বাচনে যেখানে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় মেরুকরণ দেখা গিয়েছে, সেখানে 370 এবং 35A সমর্থন করলে তৃনমূল রাজ্য রাজনীতিতে দেশ বিরোধী বা হিন্দুত্ব বিরোধী তকমা থেকে বাঁচতে পারতো না। কিন্তু আবার বিরুধ্যে ভোট দিলেও তোষণের প্রশ্ন উঠত। সেক্ষেত্রে, ভোট না দিয়ে বেরিয়ে আসাটাই শ্রেয় মনে করেছে মমতা।