কলকাতা: দলেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন তৃণমূল নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি তোপ দেগেছেন দলের জেলা সভাপতি অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে শাসকদলের অন্দরেই অস্বস্তি বেড়েছে। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তা স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

হাওড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ রায়ের সঙ্গে দ্বিমত তৈরি হতেই তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশ্যে দলীয় নেতার বিরুদ্ধে মুখ খোলায় শাসকদলে অস্বস্তি বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘উনি একাই নন। আরও অনেকে মুখ খুলবেন। তৃণমূল যা বলছে তার একটাও বাস্তব প্রয়োগ হয়েছে কী? মানুষ সব হিসেব করে দেবে।’

আমফানে ক্ষতিপূরণের টাকা বিলি ঘিরে রাজ্যের একাধিক জেলায় দুর্নীতি প্রকাশ্যে এসেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শাসকদল তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধান, সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমফানে ক্ষতিপূরণের সরকারি টাকা পরিবার ও আত্মীয়দের নামে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে।

যা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় রাজ্যজুড়ে। বিরোধীরা প্রবল প্রতিবাদ জানান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সর্বদল বৈঠকে যা নিয়ে প্রতিবাদ জানান বিরোধী নেতারা।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ‘আমফান-দুর্নীতি’ তৃণমূলের অস্বস্তি বেশ খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেটা বুঝতে পেরেই তৎপরতাও শুরু হয়েছে শাসকদলে। দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের ‘শাস্তি’ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে জেলায়-জেলায়। হাওড়াতেও সেই তৎপরতা চলছে।

আমফানের জেরে ক্ষতিপূরণের টাকা বিলির অনিয়ম-সহ একাধিক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বেশ কয়েকজবনকে সাসপেন্ড, শোকজ করেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ রায়। তবে জেলারই দাপুটে নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের অরূপ রায়ের পদক্ষেপের সঙ্গে একমত নন।

রাজীবের মতে, রাঘববোয়ালদের ছেড়ে রেখে চুনোপুঁটিদের শাস্তি দিয়েছেন অরূপ রায়। এমনকী তিনি হাওড়া জেলা তৃণমূলের আহ্বায়ক হলেও অরূপ রায় তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ দলীয় নেতাদের নামের তালিকা বানিয়ে ‘শাস্তি’ দেওয়ার তৎপরতা নিয়েছেন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ