কলকাতা:  লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যের শাসক শিবিরে ভাঙন ধরিয়েছে বিজেপি। একের পর এক বিধায়ক-কাউন্সিলরকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। যা যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় শাসকদলের কাছে। কিন্তু সময় যেতেই খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। হাতছাড়া হওয়া একের পর এক কাউন্সিলরকে ঘর ওয়াপসি করাচ্ছে তৃণমূল। এমনকি হাতছাড়া হওয়া পুরসভাগুলিও ফের তৃণমূলের হাতে আসছে।

এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, বিজেপিতে দমবন্ধ অবস্থা। আর সেই কারণেই তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া কাউন্সিলর, নেতা-কর্মীরা ফের দলেই ফিরে আসছে। ফিরহাদের এহেন মন্তব্যকে পালটা কটাক্ষ করলেন মেদিনীপুরের সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূল ছেড়ে দলে দলে লোকজন বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় ফিরহাদ হাকিমেরই এখন দমবন্ধ অবস্থা। তাই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সত্যিটা ধামাচাপা দিতে ‘বিজেপিতে দমবন্ধ’ অবস্থা বলে বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বারুইপুরে এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল।

দিলীপবাবু বলেন, বিজেপির কর্মযজ্ঞ দেখে দলে দলে মানুষ যোগ দিচ্ছে। তৃণমূলের এখন পড়ন্তবেলা। কিছুদিন পর দেখে নেবেন, কেউ থাকবে না। শোভন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উনি আসায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় দল আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করি। এদিন ভাঙড় সহ সংলগ্ন জায়গা থেকে শ‘ তিনেক তৃণমূল কর্মী রাজ্য বিজেপিতে যোগ দেন।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন আগে ফিরহাদ হাকিম অভিযোগ করে বলেন, লোকসভা নির্বাচনে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রটি বিজেপি দখল করার পর বিজেপি ওই এলাকায় সন্ত্রাস শুরু করেছিল। সেই সন্ত্রাসের কবলে পড়ে দলের অনেক কাউন্সিলরই দল বদল করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেও অনেক কাউন্সিলরকে দল ভাঙিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

কিন্তু তারা বুঝতে পেরেছেন তৃণমূলই তাদের আসল পরিবার। বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না তারা, আর সেই কারণেই মমতার দলে তাঁরা ফিরে এসেছেন বলে দাবি করেছেন মেয়র। উল্লেখ্য, ১০ জন কাউন্সিলর ফিরে আসায় এখন নৈহাটি পুরসভায় তৃণমূলের মোট কাউন্সিলর ২৩। অন্যদিকে, গারুলিয়া পুরসভায় দুজন কাউন্সিলর দলে ফিরে আসায় এখন তৃণমূলের কাউন্সিলর বেড়ে দাঁড়াল ১০।