স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রশান্ত কিশোরকে যেভাবে প্রশাসন তুলে দেওয়া হচ্ছে , সরকারটা তাহলে কাউকে ‘লিজে’ দিয়ে দেওয়া হোক। মন্তব্য, করেছেন দিলীপ ঘোষ।

‘পলিটিক্যাল স্ট্রাটেজিস্ট’ বা ভোটগুরু হিসাবে প্রশান্ত কিশোরকে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, প্রশান্ত এবং তার ‘টিম’ আই-প্যাক এর বিরুধ্যে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের দুই অফিসারকে কাজের খতিয়ান চাইতে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ওই অফিসাররা তা দেখতে অস্বীকার করেন। বলেন, সরকারের বাইরের কোনও সংস্থাকে কাজের খতিয়ান দেখতে তারা তৈরি নয়। এরপর ওই দুই অফিসারকে বদলি হয়ে যেতে হয়। ওই ঘটনার পর রাজ্য সরকারি কর্মীদের রাজ্য সরকারের উপর ক্ষোভ বেড়েছে।

সোমবার দিলীপ এও বলেন, সরকারি অফিসারদের প্রশান্ত কিশোর নির্দেশ দিচ্ছেন। সরকার তাহলে উনি চালাচ্ছেন। দিলীপের আরও বক্তব্য, প্রশান্ত শুনেছি আমাদের (বিজেপি’র) কর্মসূচি নকল করছে তৃণমূলের জন্য। কাককে বক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশান্ত কিশোর সম্পর্কে বেশি শব্দও খরচ করতে রাজি নন দিলীপ।

তবে দিলীপ যা বলছেন তা হলো, বিজেপির সাংগঠনিক পদ্ধতি ‘টুকলি’ করেই তৃণমূলকে এরাজ্যে ‘লাইফলাইন’ দিতে চাইছে প্রশান্ত কিশোর।

প্রসঙ্গত, রাজ্য রাজনীতিতে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, তৃণমূলে নতুন সাংগঠনিক পক্রিয়া যেন হুবহু বিজেপির বিস্তারক কর্মসূচি বা সদস্যতা অভিযান। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে সাফল্যের কক্ষপথে ফেরত আনতে ‘পলিটিক্যাল স্ট্রাটেজিস্ট’ প্রশান্ত কিশোর যে পথের সন্ধান দিয়েছেন তা বিজেপি’র-ই সাংগঠনিক কাজকর্মের সঙ্গে মিলে গিয়েছে। এ পথ বহু চর্চিত, গেরুয়া শিবিরের সাফল্যের ঠিকানা। জনসংযোগ রক্ষা করার সনাতন ‘মেকানিজম।’

ফলে প্রশ্ন উঠছে, বহু বছর নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ’র সঙ্গে ঘর করে তাঁদের ফর্মুলাই রাজ্যে প্রয়োগ করতে চলেছেন কী প্রশান্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যে বিজেপির বৃদ্ধি ঠেকাতে কাঁটা দিয়েই কাঁটা তুলতে চান কী লক্ষ-কোটির পলিটিকাল স্ট্রাটেজিস্ট?

সোমবার দিলীপ অবশ্য এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি বলেছেন, যারা রাজ্য চালাচ্ছেন, তারা মনে হয়না আর চালাতে পারবেন। প্রশান্ত কিশোরকেই চালাতে হবে।