নয়াদিল্লি: দেশের রাজধানীতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে বিঁধলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার মহালয়ার দিন সংসদের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, “২০২১-এ গঙ্গায় তৃণমূলের তর্পণ করব আমরা।”

এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমি সব মন্দিরে গিয়ে শুভশক্তির জয় ও অশুভশক্তির বিনাশের প্রার্থনা করেছি। ২০২১ সালে শুভশক্তির জয় হোক।” এর পরই নাম না করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন দিলীপ। বলেন, “গতকাল আমাদের তর্পণ করতে বাধা দিয়েছেন ওরা। ২০২১ সালের মহালয়ায় আমরা তৃণমূল সরকারের স্মৃতিতে তর্পণ করব।”

প্রসঙ্গত, গত বছরের মতো এবছরও মহালয়ায় ‘শহিদ’ দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তর্পণ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। তর্পণের জন্য নির্ধারিত দিনে একদিন আগে বাগবাজার ঘাটে মুকুল রায় ও কৈলাশ বিজয়বর্গীয় নেতৃত্বে এই কর্মসূচির পালনের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এই উদ্যোগ নিয়ে কিছুটা হলেও জটিলতা তৈরি হয়। বাগবাজার ঘাটে তর্পণের জন্য বাঁধা মঞ্চ খুলে দেয় পুলিশ। প্রচুর পুলিশও মোতায়েন করা হয়। বাগবাজার ঘাটে বাধা পেয়ে কৌশল বদলান কৈলাশ-মুকুলরা। তাঁরা পথ পরিবর্তন করে চলে যান গোলাবাড়ি ঘাটে। সেখানে সমস্ত শহিদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘাটে বসে শহিদ-তর্পণ করেন মুকুল রায়-কৈলাশ বিজয়বর্গীয়।

তর্পণ ইস্যুতে বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাজ্যের শাসক দলকে হুমকি হয়ে বলেছেন, “আমাদের তর্পণে বাধা দিয়ে বড্ড বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন। মনে রাখবেন, আগামী মে মাসে বিধানসভা ভোটের ফল বের হবে। আর জুন মাসে আমরা বিজেপি সরকার গঠন করব। যদি বাড়াবাড়ি করতে থাকেন, তা হলে দেখবেন গঙ্গার পাড়ে লাইন লেগে গিয়েছে আপনাদের তর্পণ করার জন্য। তাই বলছি, এখন থেকে শুধরে যান। আমাদের কোনও রকম উত্তেজিত করবেন না।”

মহালয়ার সকালে তপর্ণ সেরে একই সুরে পুলিশকে হুমকি দিয়েছেন বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, “যাঁরা তপর্ণের মঞ্চ খুলেছে, তাঁদের উর্দি খুলে নেব।”

এদিন জিএসটি নিয়েও তৃণমূলের প্রতিবাদকেও কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “তৃণমূলের খালি টাকা চাই। ওদের তো সব থেকে বেশি টাকা মদ থেকে আসে। অন্য বড় রাজ্য কীভাবে চলছে! তাঁরা তো এত টাকা টাকা করছে না!”

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।