স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর : কু কথায় তিনি দিন দিন পটু হয়ে উঠছেন। প্রত্যেকদিন সকালবেলান উঠে নিশ্চয় বার দুয়েক যত খারাপ কথা বলা যায় সেগুলো রিহার্সাল করেই বের হন। আজ যেমন দিলীপ ঘোষ বললেন , তৃণমূলকে কালীঘাটে এবং সিপিএমকে যাদবপুরে ঢুকিয়ে দেবেন বললেন।

উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের মঙ্গল পান্ডে উদ্যানে বৃহস্পতিবার সকালে চায়ে পে চর্চা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দলীয় সমর্থকদের উত্তেজিত করতে তিনি নয়া কু-কথা বলেন। তিনি বলেন , ‘তৃণমূলের সঙ্গী এখন জগাই, মাধাই অর্থাৎ সিপিএম ও কংগ্রেস। সি এ এ ইস্যুতে ওরা তিন বিরোধী দল এখন জোট বেঁধেছে । বিধানসভায় দরজা বন্ধ করে ওরা এক সঙ্গে সি এ এর বিরুদ্ধে সমর্থন জানিয়েছে । আমাদের দলের বিধায়করা বিধান সভায় ভোটাভুটি চেয়েছিল । কিন্তু স্পীকারের সাহস হয়নি । তাই দরজা বন্ধ করে সি এ এর বিরুদ্ধে সমর্থন জানিয়েছে ওরা। রাজ্যে কোথাও গনতন্ত্র নেই আমরা বলি, এখন দেখলাম বিধান সভার ভেতরেও গনতন্ত্র নেই । ২০২১ সালের ভোটে যতক্ষণ না পর্যন্ত তৃণমূলকে কালী ঘাটে আর সিপিএম কে ওই যাদবপুরে ঢুকিয়ে দিতে পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার শান্তি নেই । আমি ছুটতেই থাকব।’

তিনি এদিন আরও বলেন, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুরুলিয়া থেকে দার্জিলিং সব জায়গায় ঘুরে ফেলেছেন, কিন্তু সিএএ কি আটকাতে পেরেছেন? সিএবি বিল এখন সি এ এ হয়ে গিয়েছে । সেরকমই পরবর্তী সময়ে কখনো এন আর সিএএও হবে, তবে তখন হয়ত ম্যাডাম আর মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না। ওদের আন্দোলন দেখেছেন তো চিদম্বরম আসলেও সেই পার্কসার্কাস আর বৃন্দা কারাট আসলেও ওই পার্কসার্কাস। এমনিতেই সার্কাস এখন অনেকটাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই সার্কাস ও ধীরে ধীরে তাই হয়ে যাবে।’

এদিন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে ব্যারাকপুর মঙ্গল পান্ডে উদ্যানে চায়ে পে চর্চা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং, নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক সুনীল সিং, ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র সহ অন্যান্যরা।

দলীয় কর্মীরা ব্যারাকপুরে বিজেপির সাম্প্রতিক অবস্থার কথা রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সামনে তুলে ধরেন । দিলীপ ঘোষ দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “রাজনীতির ময়দানে কাউকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া যাবে না । নেতা হতে গেলে জেলে যেতেই হবে । এমন কাজ করুন যাতে আপনাকে ওরা ধরে নিয়ে যায় । তবে তো লোকে চিনবে । পুলিশ গ্রেপ্তার না করলে সে আর নেতা কি করে হবে ?’ সাংবাদিকদের রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘আমরা মতুয়াদের নাগরিকত্ব দিয়েছি, সেটা ওদের সহ্য হচ্ছে না। ওরা মতুয়াদের শুধু ভোটার করে রেখেছিল। সকলেরই বোঝা উচিত বিজেপি মানুষের পক্ষে কাজ করছে। ওরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভুল বুঝিয়ে মুর্শিদাবাদে মার খাওয়াল। ওখানে তো আর বিজেপি নেই, তাই দোষ দিতে পারছে না জলঙ্গীর ঘটনার জন্য কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল এই তিন দলই দায়ী । সিএএ নিয়ে ওরা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে, মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে । আমরা মানুষকে সঠিক তথ্য দিচ্ছি। আমাদের বাড়ি বাড়ি ঘরে ঘরে প্রচার চলছে।’

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা