স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মেঘালয়ের রাজ্যপালের পদ থেকে অব্যাহতি পেলে আবার পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাইছেন তথাগত রায়। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা তাঁর এই ইচ্ছাকে স্বাগত জানালেও বিজেপির বর্তমান সভাপতি দিলীপ ঘোষ পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন। সেই সঙ্গে তথাগত রায়ের সমালোচনা নিয়েও মুখে কুলুপ আঁটলেন।

মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে এক অনুষ্ঠানে তথাগত প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন দিলীপ ঘোষ। সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে চাইছেন তথাগত বাবু। এই প্রশ্নে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এটা আমার বিচার্য্য বিষয় নয়। পার্টি রয়েছে তাই বিষয়টি পার্টিই দেখবে।”

গত ২০ মে তাঁর রাজ্যপালের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে তথাগত রায়ের। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এখনও দায়িত্ব থেকে অব্যহতি পাননি। তবে তথাগত রায় ঘনিষ্ট মহলে জানিয়েছেন, নানান কারণে তাঁকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসতে হয়েছিল। এখন আর তিনি রাজ্যপাল থাকতে চান না। সক্রিয় রাজনীতির আঙিনায় ফিরে আসতে চান স্বমহিমায়।

তথাগতবাবু সোমবার নিজেই জানিয়েছেন, রাজ্যপাল পদে তাঁর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও এখন করোনা পরিস্থিতির জন্য তাঁকে সেখানেই কাজ চালাতে হচ্ছে। তবে তিনি যে বাংলায় বিজেপিতে সক্রিয় হতে চান, সে কথা খোলাখুলি জানিয়ে তথাগত রায় বলেন, ‘‘দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অনুমতি দিলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আমি ফিরব।’’ তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তাঁর এই ইচ্ছের কথা দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও পৌঁছে গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, এক সময় রাজ্য বিজেপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তথাগত রায়। ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য। ২০০৯ এবং ২০১৪-র দুটি লোকসভা ভোটেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি হেরে যান। প্রথম বার কলকাতা উত্তরে। তার পর কলকাতা দক্ষিণে।২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরার রাজ্যপাল হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালে তাঁকে মেঘালয়ের রাজ্যপাল করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত ওই রাজ্যের রাজ্যপালের দায়িত্বই রয়েছেন তথাগত।

ত্রিপুরা এবং মেঘালয়ের রাজ্যপাল হয়েও তথাগত রায় রাজনৈতিক মন্তব্য করা থেকে বিরত হননি। এমনকি সদ্য বাংলার বর্তমান বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের বিভিন্ন কথাবার্তা বাঙালির রুচির বিরোধী বলেও খোঁচা দিয়েছেন তিনি।

গরুর দুধে সোনা পাওয়া থেকে শুরু করে গোমূত্র পানের ‘উপকারিতা’, দিলীপ ঘোষের সেইসব মন্তব্যের বিরোধিতা করে তথাগতবাবু বলেছেন, ‘‘গোমূত্র, গোবর, উটমূত্র ইত্যাদি পানের পরামর্শ, গরুর দুধে সোনা খুঁজে পাওয়া, এ সব অবৈজ্ঞানিক কথা বাঙালিরা পছন্দ করে না। এ সব আমিও বলি না। কিন্তু এ সবের জন্য আমাকে অনেক কুবাক্য সহ্য করতে হয়। সামাজিক মাধ্যমে যখনই আমি কমিউনিস্টদের সম্পর্কে যুক্তিসঙ্গত এবং তথ্যনিষ্ঠ সমালোচনা করি, তখনই আমাকে গোমূত্র খান, গরুর দুধে সোনা খুঁজুন ইত্যাদি বলে আক্রমণ করা হয়।’’ কিন্তু এদিন তথাগতর সমালোচনার কোনও জবাব দেননি দিলীপ ঘোষ।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও