কলকাতা: নাগরিক সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে শহরের বিভিন্ন পড়ুয়াদের আন্দোলনকে কার্যত হুঁশিয়ারি বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। নাগরিক সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে শহরের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ পড়ুয়াদের মিছিল ছিল আজ শনিবার। আর সেই মিছিল ঘিরে ধুন্ধুমার হয়ে ওঠে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ।

এদিন দুপুর ৩টে নাগাদ শহিদ মিনার থেকে শুরু হয় এই মিছিল। পথে বিজেপির সদর দফতরের সামনে এই মিছিল ঘিরে উত্তেজনাও ছড়ায়। কিছু পড়ুয়া বিজেপির সদর দফতরে ঢোকার চেষ্টা হলেও পুলিশ তা প্রতিহত করে। এই প্রসঙ্গেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, আমাদের পার্টি অফিসে কেউ যদি ভুল করে যায়, সঙ্গে যেন স্ট্রেচার নিয়ে যায়। কারণ তাঁর হেঁটে ফেরার মতো অবস্থা থাকবে না।

কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর ছিল কলকাতা পুলিশ। এই মিছিল প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দেবজিত সরকার বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে, গণতান্ত্রিক উপায়ে যে কেউ আন্দোলন করতেই পারেন। কিন্তু এই মিছিল থেকে যেভাবে উসকানি দেওয়া হচ্ছে, আমাদের নেতাদের উদ্দেশে কটূক্তি করা হচ্ছে তা কখনই কাম্য নয়। পুলিশ আজকে যথেষ্ট সক্রিয় ছিল। কিন্তু, জলকামান বা অন্যান্য ব্যবস্থা দিয়ে যেভাবে আমাদের মিছিলকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়, তা এখানে কিছুই দেখলাম নয়।

পড়ুয়াদের এই মিছিল গতিপথ ছিল শহিদ মিনার থেকে মহাজাতি সদনের দিকে। মিছিলের পথে মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির সদর দফতরকে নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে রেখেছিল পুলিশ। বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-এর ওই চত্বর। বেশ কয়েকটি বাস দাঁড় করিয়ে বিজেপির কার্যালয়ের সামনে কার্যত প্রাচীর গড়ে তোলে কলকাতা পুলিশ। এই মিছিল চাঁদনী চক অতিক্রম করে মেডিকেল কলেজ পেরোতেই উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন পড়ুয়ারা। বাঁশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে বিজেপির সদর দফতরে ঢোকার চেষ্টাও করেন তাঁরা। কিন্তু, পুলিশি তৎপরতায় ব্যারিকেড ভাঙলেও মুরলীধর সেন লেনে ঢুকতে পারেননি পড়ুয়ারা। মিছিল এগিয়ে যায় মহাজাতি সদনের দিকে।

পড়ুয়াদের মিছিল চলে যাওয়ার পরে নাগরিক সংশোধনী আইনের পক্ষে মিছিল বের করে বিজেপি। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিজেপি নেতা দেবজিত সরকার। এই মিছিল থেকে তিনি এই আইন বিরোধিতায় পথে নামা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই মিছিলে অনেকেই এই আইন না জেনেই আন্দোলনে নেমেছে। নাগরিক সংশোধনী আইনের পক্ষে গোটা বাংলার মানুষ রয়েছে।’