কলকাতা: আবারও দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে ছড়াল বিতর্ক। জেএনইউয়ের ঘটনা নিয়ে বলতে গিয়ে বামেদেরই কাঠগড়ায় তুললেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। একইসঙ্গে জেএনইউয়ে বাম ছাত্রদের উপর হামলার ঘটনাকে পরোক্ষে সমর্থন করলেন দিলীপ ঘোষ। হামলাকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বামেরা মার খেলেই যত গোলমাল হয়। কিন্তু বিভিন্ন রাজ্যে যখন এবিভিপি মার খায় কেউ পথে নামেন না। বামেদের মার খাওয়ার সময় এসেছে, এমন ঘটনা এবার আরও ঘটবে।’

রবিবার সন্ধেয় দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখে কালো কাপড় বেঁধে ঢুকে পড়ে বেশ কয়েকজনের একটি দল। ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ুয়াদের মারধরের পাশাপাশি ফি বৃদ্ধি ও সিএএ-এনআরসি নিয়ে আন্দোলনকারীদের উপরও চড়ায় হয় দুষ্কৃতীরা। ব্যাট, লাঠি, রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্লস হস্টেলে ঢুকেও তাণ্ডব চালানো হয়। বাম ছাত্র সংসদ সভাপতি ঐশী ঘোষ-সহ একাধিক বাম ছাত্র নেতা-কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরে মাথা ফাটে ঐশী ঘোষের। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন।

ঐশীর পাশাপাশি গুরুতর ভাবে আহত হইয়েছেন অধ্যাপিকা সুচরিতা সেন। জহওরলাল ইউনিভারসিতি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সভানেত্রী ঐশী ঘোষ বর্তমানে এইএমসের ইনটেনসিভ কেয়ারে চিকিৎসাধীন। ছাত্র সংসদের দাবি, মুখে মুখোশ পরে হামলা চালিয়েছে আক্রমণকারীরা। এবিভিপি’র বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। জেএনইউ কর্তৃপক্ষ এবং এবিভিপি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদের স্বর আরও জোরালো করার আহ্বান জানিয়েছে ছাত্র সংসদ।

আরও পড়ুন- জেএনইউ হামলার প্রতিবাদ জানাল বুদ্ধিজীবী থেকে বলি-টলি মহল

ফি বৃদ্ধি-সহ কর্তৃপক্ষের একাধিক ছাত্রবিরোধী নীতির অভিযোগ তুলে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে জেএনইউ’র ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দমাতে এর আগেও একাধিক হামলা চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ, পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ এমনই।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, হামলার সময় ছাত্রীরা সবরমতী হোস্টেলের মহিলা শাখায় গিয়ে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় আক্রমণকারীরা গোটা করিডরে ভাঙচুর চালায়। বাইরের কার পার্কিংয়েও চালানো হয় ভাঙচুর। গোটা ঘটনাটিকে জেএইইউ-তে এমারজেন্সি বলে ট্যুইটারে উল্লেখ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ।

সোমবার সকালে জেএনইউ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘জেনইউয়ে অশান্তির মূলে বামেরাই। বছরের পর বছর ধরে গন্ডগোল পাকাচ্ছে বামেরা। এবার বামেদের মার খাওয়ার সময় এসেছে। এণন ঘটনা পরে আরও ঘটবে।’ যদিও রবিবার সন্ধেয় জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা হামলা চালাল, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে চাননি দিলীপ ঘোষ।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।