স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গড়িয়া শ্মশানের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ফের রাজ্যের বিরুদ্ধে করোনা তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলল বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মৃতদের প্রতি এত অবহেলা কীসের?

বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, গড়িয়ার আদি মহাশ্মশানে একজন কর্মী আঁকশি দিয়ে টেনে পচা-গলা মৃতদেহ গাড়িতে তুলছেন। সেই গাড়িটির গায়ে কলকাতা পুরসভা লেখা রয়েছে। এই সমস্ত মৃতদেহগুলি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে স্থানীয়রা। ফলে বাধ্য হয়ে সেই দেহগুলিকে গাড়িতে করে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও এই মৃতদেহগুলি সঙ্গে করোনার আর কোনও সম্পর্ক নেই বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দেয় স্বাস্থ্যদফতর। এদিকে প্রশ্ন উঠতে থাকে বেওয়ারিশ লাশ কী করে গড়িয়া মহাশ্মশানে দাহ করার জন্য আনা হল।

এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, ”করোনা আক্রান্ত হয়ে কার মৃত্যু হচ্ছে, কত আক্রান্ত, কত জনের পরীক্ষা করা হচ্ছে – সব প্রকাশ্যে আনা দরকার। আর মৃতদের প্রতি এত অবহেলা কীসের? কেন মৃত্যুর পর একটু সম্মানের সঙ্গে মানুষের শেষকৃত্য হবে না?”

যদিও এবিষয়ে কলকাতা পুরসভার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে এসেছে। ওই বিজ্ঞপ্তি ২৯শে মে প্রকাশ করে কলকাতা পুরসভা। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পুর কর্তৃপক্ষ বেওয়ারিশ লাশ পোড়ানোর জন্য গড়িয়ার আদি মহাশ্মশানকে চিহ্নিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এতদিন পর্যন্ত বেওয়ারিশ লাশ পোড়ানোর জন্য ধাপার পরিত্যক্ত স্থানকে ব্যবহার করা হত। এখন যেহেতু ধাপায় করোনায় মৃত হিন্দুদের দেহ পোড়ানো হয়, সেক্ষেত্রে বেওয়ারিশ লাশ পোড়ানোর জন্য গড়িয়া মহাশ্মশান ও নিমতলা শ্মশানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এরপরই দুপুরে এনআরএস হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, এই লাশগুলি ছিল এনআরএস হাসপাতালের মর্গে। সবকটাই ছিল বেওয়ারিশ লাশ। ১৫ দিন ধরে লাশ গুলি হাসপাতালের মর্গে ছিল। কোনও দাবিদার না থাকায় এদিন মোট ১৪টি বডি কলকাতা পুরসভার হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু এই লাশগুলির সঙ্গে কোভিড যোগ নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় মৃতদেহগুলি কোভিড পজিটিভ বলে যে প্রচার চলেছে তা ভুয়ো। এই প্রচারের নেপথ্যে যারা রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব