নয়াদিল্লি: গন্ডগোল যারা করছে তাদের কি চা খাওয়ানো উচিত? দিল্লির সংঘর্ষ নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের জেরে বিতর্ক ছড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের শেষ দিনে দফায়-দফায় সংঘর্ষ হয়েছে দিল্লিতে। লাফিয়ে বেড়েছে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যাও। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত দিল্লির সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। দু’শোর বেশি মানুষ আহত হয়ে রাজধানীর একাধিক হাসপাতালে ভরতি রয়েছেন।

একদিকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা ও অন্যদিকে এই আইনের পক্ষে থাকা দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গন্ডগোল শুরু হয় রবিবার থেকে। রবিবারের পর সোমবার দিনভর দু’পক্ষের মধ্যে চলে সংঘর্ষ। মঙ্গলবারও তার রেশ ছিল। এদিন সকাল থেকেই উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিস্তীর্ণ প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে গন্ডগোল। একে অপরের দিকে লাঠি, লোহার রড নিয়ে তেড়ে যান মানুষজন। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের জেরে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মোট ১৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা দু’শোর কাছাকাছি।

এদিকে, দিল্লির সংঘর্ষ নিয়ে মঙ্গলবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক ছড়িয়েছে। সিএএ বিরোধীদের নিশানা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘যারা পুলিশকে পাথর মারছে, গুলি মারছে, তাদের কি ডেকে চা খাওয়ানো উচিত ছিল? দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে যা করা উচিত দিল্লি পুলিশ সেই আচরণই করেছে।’

মঙ্গলবার দিনভর অশান্ত ছিল রাজধানী দিল্লি। সন্ধেয় ফের নতুন করে অশান্ত হয়ে ওঠে দিল্লির চাঁদবাগ এলাকা৷ একদিকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির প্রতিবাদে আন্দোলন ও অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দমন করতে ময়দানে অন্যপক্ষের দাপাদাপি৷ দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়৷ এলাকার একাধিক দোকানে চলে ভাঙচুর, আগুন৷ পরিস্থিতি সামলাতে দিল্লির মৌজপুর, জাফরাবাদ, চাঁদবাগ, কারাওয়াল নগরে কার্ফু জারি প্রশাসনের৷

এধিন চাঁদবাগেও সিএএ ও এনআরসির প্রতিবাদে পথে নামেন মানুষ৷ অনেককে লোহার রড, লাঠি নিয়েও দাপাদাপি করতে দেখা যায়৷ উল্টোদিকে, আন্দোলন দমনের নামেও কয়েকশো লোক জড়ো হয় এলাকায়৷ মুহূর্তে সংঘর্ষ বেঁধে যায় দু’পক্ষের মধ্যে৷ এরই মধ্যে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েও বিক্ষোভ শুরু করে কয়েকজন৷ পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গিয়ে বিক্ষোভ তুলে দেয়৷