দেবময় ঘোষ, কলকাতা: সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য বিজেপির মাথারা সকলেই রয়েছেন, কিন্তু নেই মুকুল রায়। প্রশ্ন উঠলো কেন নেই মুকুল? কিছুক্ষণ আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলায় ‘২১ জুলাই’ মঞ্চ থেকে ‘পাওয়ার প্যাক্ড’ ভাষণ দিয়ে ফিরে গিয়েছেন। মমতার এক একটা অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে তৈরি ছিল রাজ্য বিজেপির সদর দফতর ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেন।

পড়ুন আরও- মুকুল’দার গাড়িতেই ফোনটা এলো…

মুরলীধর সেন লেনে সাংবাদিক বৈঠক করতে এসেছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের চার সাধারণ সম্পাদক – প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়ন্তন বসু, রাজু ব্যানার্জি এবং সঞ্জয় সিং। প্রশ্ন উঠলো মুকুল রায় কোথায়? তিনি নেই কেন এই সাংবাদিক সম্মেলনে? রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের সাফ জবাব, সব জায়গায় মুকুল রায়কে থাকতে হবে এমন কি কোনো কারণ আছে? মুকুল রায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি কেন্দ্রীয় নেতা। দিল্লিতে যোগদান করান।

এই সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য নেতারা আছেন। আজ রাজ্য স্তরে যোগদান হবে (তার কিছুক্ষণ পরেই অভিনেত্রী রিমঝিম মিত্র এবং সুরজিৎ চৌধুরী বিজেপিতে যোগ দেন। দিলীপ ঘোষ অবশ্য উঠতি বিতর্ক নিজের দক্ষতা দিয়ে চাওয়ায় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী সভা করে যা বলেছেন তার জবাব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের নেতারাই তো জবাব দেবেন। উনিও (মুখ্যমন্ত্রী) রাজ্যের নেতাদের টার্গেট করেছেন। তবে ‘বড় হাতিয়ার’ তুলে রাখা আছে। ‘বড় হাতিয়ার’ বলতে দিলীপ যে কাকে বুঝিয়েছেন তা বিজেপির অন্দরে বুঝতে বাকি নেই কারও।

তবে মুকুল রায়কে নিয়ে হালকা পরিহাস করে দিলীপ যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন তা পরিষ্কার। বিজেপির অন্দরে জোর জল্পনা- মুকুল দিলীপের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। একদা যাকে ‘ভাই’ বলে বিজেপিতে এসেছিলেন মুকুল তিনি এখন নাকি কাছের মানুষ নন – জল্পনা তুঙ্গে। রাজ্য নেতৃত্বকে এড়িয়ে মুকুল রায়ের নেতৃত্বে দিল্লিতে লাগাতার যোগদান পর্বে রাজ্য বিজেপির অনেকেই ক্ষুব্ধ। যা খবর, রাজ্যের কিছু নেতা মুকুলের ‘দিল্লি অভিযান’ নিয়ে আপত্তি তুললে ওই পর্যবেক্ষক নিজের রায় জানিয়েছেন। অন্যদিকে মনে রাখা প্রয়োজন, দিল্লিতে প্রতিবার দলবদলে পর্বের সময় মুকুল রায়ের সঙ্গে থাকেন রাজ্যের মুখ্য পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। দিন দয়াল উপাধ্যায় মার্গে সদর দফতরে বসে মুকুল এবং কৈলাস মিলে গুচ্ছ নেতাদের বিজেপির পতাকা তুলে দিয়েছেন।

সেক্ষেত্রে যে পর্যবেক্ষক দিল্লি অভিযানে ‘না’ করছেন, সেই পর্যবেক্ষক একপ্রকার কৈলাস-মুকুলের বিরোধিতা করছেন বলেই ধরে নিয়েছে দলের একাংশ। প্রসঙ্গত কিছুদিন আগেই, রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সুব্রত চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, “রাজ্যস্তর এবং জেলাস্তরের নেতাদের কি কোনও সম্মান নেই? তাদেরকে না জানিয়েই দিল্লিতে যোগদান হয়ে যাচ্ছে। এটা চলতে পারে না। ‘এনাফ ইজ এনাফ’।

আমরা পরিষ্কার বলে দিয়েছি, রাজ্যকে না জানিয়ে, স্থানীয় সংগঠনকে না জানিয়ে কোনও যোগদান দিল্লিতে হবে না।” ওই সময় তিনি আরো বলেন, ‘এভাবে চললে পার্টি টিএমসি হতে বেশি সময় লাগবে না।’ রাজ্য বিজেপিতে সুব্রত এবং দিলীপ এই নৌকোর দুই যাত্রী। দুজনের মনোভাব আলাদা নয় বলে মনে করেন অনেকেই।