কলকাতা: রাজ্য সভাপতি পদে দলেরই অনেকে নাকি আর চাইছেন না দিলীপ ঘোষকে। নতুন কাউকে বাংলার দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতেও ইতিমধ্যেই সরব রাজ্য বিজেপির একাংশ। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কানেও সেই কথা পৌঁছেছে। আর তাই রাজ্যে ঘুরে গেলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদব। অমিত শাহ ঘনিষ্ঠ এই নেতা আলাদা করে বৈঠক করলেন রাজ্য নেতাদের সঙ্গে। দিলীপ ঘোষের বদলে এই মুহূর্তে কাকে এরাজ্যে দলের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে সেব্যাপারেও নাকি কথা বলে গিয়েছেন ভূপেন্দ্র।

নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি ইস্যুতে দেশের বিভিন্ন অংশের পাশাপাশি এরাজ্যেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কেন্দ্র বিরোধিতায় সরব শাসকদল তৃণমূল থেকে শুরু করে বাম, কংগ্রেস-সহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলি। গত লোকসভা ভোটে এরাজ্যে ভাল ফল করলেও পরের উপনির্বাচনগুলিতে সেই ফল ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে গেরুয়া শিবির। এমনকী লোকসভা ভএাটে জেতা কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রেও হার হয়েছে বিজেপির। একইসঙ্গে দলের অন্দরেও একের পর এক মন্তব্যের জন্য দলেরই একাংশের বিরাগভাজন হয়েছেন দিলীপ।

রবিবারই নদিয়ায় প্রকাশ্য জনসভায় দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের জেরে তাঁর কড়া সমালোচনায় সরব হয়েছেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। নদিয়ার ওই জনসভায় দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘দেশবিরোধীদের উপর গুলি চালিয়ে ঠিক কাজই করেছে উত্তরপ্রদেশ, অসম ও কর্নাটক সরকার।’ এরপরই টুইটে দিলীপকে নিশানা করেছেন বাবুল। দিলীপ ঘোষ দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন বলেও লেখেন বাবুল সুপ্রিয়।

এই মুহূর্তে বিজেপি রাজ্য সভাপতি পদে বদল নিয়ে চলছে বিস্তর জল্পনা। রাজ্য সভাপতি পদে দিলীপ ঘোষই থাকবেন নাকি তাঁর বদলে দায়িত্ব দেওয়া হবে অন্য কাউকে। সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ৬ নং মুরলিধর সেন লেনের অন্দরে। ইতিমধ্যেই কলকাতায় দূত পাঠিয়েছেন অমিত শাহ। শাহ ঘনিষ্ঠ ভূপেন্দ্র যাদব কোর কমিটির ১৫ জনের সঙ্গে আলাদা আলাদা ভাবে বৈঠক করেছেন।

নতুন সভাপতি নির্বাচনে খোলামেলা মতও নিয়েছেন কর্মীদের কাছ থেকে। তবে এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। ভূপেন্দ্র যাদব কলকাতা থেকে ফিরে রিপোর্ট দেবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। বঙ্গ বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার উল্লেখ থাকবে সেই রিপোর্টে। তারপরই চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে আসবে গেরুয়া শিবির।

অন্যদিকে, দলেরই অন্য অংশের মত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলন চালিয়ে যেতে দিলীপ ঘোষই সেরা পছন্দ। সভা-মিছিলে তাঁর ‘গা-গরম’ করা মন্তব্যে চাঙ্গা বোধ করেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। এমনকী দলের নীচুতলার কর্মীদের একটি বড় অংশই দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে আস্থা রেখেছেন। কারও কারও মতে, দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে নেওয়া একের পর এক কর্মসূচির জেরেই বঙ্গ দখলের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বিজেপি। আর তাই ২০২১-এর বিধানসভা ভোট দিলীপের নেতৃত্বেই লড়া উচিত বলে মত দলের একাংশের।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।