স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে আরও একবার মনোনীত হলেন দিলীপ ঘোষ। দ্বিতীয় দফায় তিন বছরের জন্য বঙ্গ বিজেপির সভাপতির চেয়ারে বসলেন তিনি৷ বৃহস্পতিবার সর্বভারতীয় বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক মুরলীধর রাও দিলীপ ঘোষের নাম ঘোষণা করেছেন৷

২০১৫ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) থেকে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিয়েই রাজ্য সভাপতি হন দিলীপ ঘোষ। তারপর ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে খড়্গপুর থেকে নির্বাচিত হন তিনি। দিলীপ ঘোষের আমলেই রাজ্যে বিজেপির সংগঠন মজবুত হয়েছে। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এরাজ্যে নজিরবিহীন ফল করেছে বিজেপি৷ দিলীপ ঘোষ নিজে মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে ফের জয়লাভ করে লোকসভার সদস্য মনোনীত হন। কেন্দ্রীয় বিজেপি সূত্রের দাবি, বঙ্গ বিজেপির পারফরম্যান্সে যারপরনাই খুশি মোদি-অমিত শাহরা। তার উপর আরএসএস-এর পূর্ণ সমর্থন দিলীপ ঘোষের কাছে বাড়তি পাওনা। তাই বিকল্প কোনও মুখের কথা চিন্তা না করেই দিলীপ ঘোষকে ফের একবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি হিসেবে বেছে নিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

বুধবার রাজ্য দফতরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা বিজেপির পর্যবেক্ষক কিরেন রিজিজু। তাঁকে মনোনয়নপত্র জমা দেন দিলীপ। প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার আগে পর্যন্ত দিলীপ ছাড়া আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

এই মুহূর্তে দেশজুড়ে বিজেপির সাংগঠনিক নির্বাচন চলছে। প্রতিটি প্রদেশে রাজ্য সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দলের সর্বভারতীয় সভাপতি পদে বসবেন জেপি নাড্ডা। আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

সভাপতি পদে দিলীপ ঘোষের দ্বিতীয়বার নির্বাচন আচমকা ঘনিয়ে এসেছিল আশঙ্কার মেঘ। সিএএ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে মারার নিদান দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তার সমালোচনা করেন বাবুল সুপ্রিয়। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী টুইট করেন,”দিলীপ ঘোষ যা বলেছেন, তা নিয়ে দল হিসেবে বিজেপির কিছুই করার নেই। উত্তরপ্রদেশ, অসমে বিজেপি সরকার কখনও কারওর ওপর গুলি চালায়নি, তা সে যে কারণেই হোক না কেন। দিলীপদার এমন মন্তব্য অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন।” তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য উড়িয়ে বলে দেন,”ভুল কিছু বলিনি। যা বলেছি দলীয় লাইন মেনেই।” জানা গিয়েছিল,দিলীপকে ফের সভাপতি পদে দেখতে চাইছেন না অনেকেই। তবে শেষমেশ দিলীপের নামেই শিলমোহর পড়ল।