স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামকে দলে নেওয়ার পর রাজ্য বিজেপির অন্দরে ঝড় উঠেছিল৷ যদিও তার কিছুদিনের মধ্যেই বিজেপিকে গঙ্গার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছিলেন, বিজেপি হল গঙ্গা। গঙ্গার জল যেমন বয়ে যায়, সেখানে অনেক ময়লা আবর্জনাও আসে। বিজেপিতে যোগ দিলে সবাই পরিশুদ্ধ হয়। দিলীপ ঘোষের কথা মতোই বুধবার ঘাসফুল শিবিরের আরও একজনকে পরিশুদ্ধ করার দায়িত্ব নিল গেরুয়া শিবির৷ এদিন দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিলেন চেতলার একসময়ের ত্রাস শ্রীধর দাস৷

বাম আমলে চেতলার ত্রাস ছিলেন শ্রীধর দাস। তোলাবাজি-সহ একাধিক মামলা রয়েছে তাঁর নামে। সেই সময় তাঁর উপরে সিপিএম নেতাদের বরাভয় ছিল বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। কিন্তু পরিবর্তনের জমানায় শিবির বদলান শ্রীধর। ঘাসফুলে মালা রায়ের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। কিন্তু আগের মতো দাপট আর তাঁর নেই।

কিছুদিন আগেই পদ্ম শিবিরে দিকে ঝুঁকে পড়েন শ্রীধর। রাসবিহারীর দুর্গাপুজোর ‘দখলকে’ ঘিরে প্রচারে আসেন শ্রীধর। তাঁকে ব্যবহার করে পুজোটি দখলের চেষ্টা করেছিল বিজেপি। ওই পুজো কমিটির অফিসে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু যাওয়ার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। দুপক্ষের মধ্যে বাঁধে সংঘর্ষ। গ্রেফতার করা হয় শ্রীধর দাসকে।

সেই শ্রীধরই আনুষ্ঠানিকভাবে বুধবার যোগ দিলেন বিজেপিতে। তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিজেপির রাজ্য সভাপতির প্রতিক্রিয়া, শ্রীধর আসায় দক্ষিণ কলকাতায় সংগঠন মজবুত হবে। শ্রীধরের অভিযোগ, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে শাসক দল। সে কারণে এলাকার বাইরে থাকতে হচ্ছে।

তবে ‘ডন’ শ্রীধরকে দলে নেওয়ার পর বিজেপির ভাবমূর্তি কতটা স্বচ্ছ থাকবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন৷