বর্ধমানঃ  বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় এফআইআর করার জন্য আবেদন জানাল ডিওয়াইএফআই-এর বর্ধমান সদর ১ ও ২ অঞ্চল কমিটি। গত ১২ জানুয়ারি নদিয়ার একটি সভায় দিলীপ ঘোষ এনআরসি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলনকারীদের অসম এবং উত্তরপ্রদেশের মত গুলি করে মারার নিদান দেন।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের এহেন মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইতিমধ্যে এহেন মন্তব্যে তীব্র বিরোধীতা করেছে তৃণমূল। এমনকি খোদ দলের মধ্যেই সমালোচিত হতে হয়েছে দিলীপ ঘোষ। খোদ কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এহেন মন্তব্যকে কটাক্ষ করেছেন।

আর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই ডিওয়াইএফআই আজ শুক্রবার গোটা রাজ্য জুড়ে সমস্ত থানায় থানায় দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর করার কর্মসুচী গ্রহণ করে। নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী এদিন সন্ধ্যায় বর্ধমান শহরের কার্জনগেট চত্বরে ডিওয়াইএফআইয়ের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল করে বর্ধমান থানায় পৌঁছে ডিওয়াইএফআইয়ের পক্ষ থেকে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন আগে রাণাঘাট থানায় দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তৃণমূল কংগ্রেস৷ দলের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এই এফআইআর দায়ের করেছেন৷ শুধু তাই নয়, মেদিনীপুরের সাংসদের কাছে যদি আগ্নেয়াস্ত্র থাকে, তাহলে তা বাজেয়াপ্ত করারও আর্জি জানিয়েছেন তিনি। হাবড়াতেও দিলীপের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে তৃণমূল৷

উল্লেখ্য, গতরবিবার নদিয়ার রানাঘাটের সভা থেকে CAA বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, “এই রাজ্যে একটাও গুলি চলেনি, লাঠি চলেনি, এফআইআর হয়নি। কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। কিন্তু কেন করেনি? কারও বাপের সম্পত্তি নাকি? মানুষের করের টাকায় রেল-বাস, রেললাইন, রাস্তা করা হয়। সেসব নষ্ট করে দিয়েছে। অসম, উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটকে এই শয়তানদের আমাদের সরকার গুলি করে মেরেছে কুকুরের মতো। তুলে নিয়ে গিয়ে কেস দিয়েছে। ওরা এখানে আসবে, খাবে, আর এখানকার সম্পত্তি নষ্ট করবে? জমিদারি পেয়েছে নাকি? লাঠিও মারব, গুলিও করব, জেলেও পাঠাবো। আর তাই করেছে আমাদের সরকার।”

এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতির গুলি মন্তব্যের কড়া নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এপ্রসঙ্গে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেছেন, “কেন্দ্র সরকারের দিলীপ ঘোষকে গুলি করে মারা উচিত।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ