স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পুজো কমিতিগুলোকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও কমিটিগুলিকে একাধিক কর ছাড় দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সিভাপতি দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ ঘোষ বলেন, “কোথা থেকে এই টাকা আসবে? এতো রাজ্যের উন্নয়নের টাকাই খয়রাতি করা হচ্ছে”। তাঁর কথায়, “এই টাকা কারা পাবে তাও একটা ব্যাপার। যেমন সবুজ সাথীর ক্ষেত্রে হয়েছে। এও এক বড় দুর্নীতি হতে চলেছে। তৃণমূলের পেটোয়া ক্লাবগুলোই টাকা হবে। মানে ক্যাডার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড তৈরি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহার মন্তব্য, ‘‘কোনও দিন এই সরকারের পুজো নিয়ে ইতিবাচক দিক দেখিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে মনে হল বিজেপির ভয়ে তিনি কাঁটা হয়ে রয়েছেন। তাই প্রতিশ্রুতির বন্যা।’’

করোনা আবহে আর্থিক অনটনের মুখে পড়ছে পুজো কমিটিগুলি। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে থেকে একাধিক ঘোষণা করেন মমতা। জানান, সব রেজিস্টার্ড পুজো কমিটিগুলিকে এবার ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেবে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, করোনা-পরিস্থিতিতে অনেকেই স্পনসর পাচ্ছেন না। বিজ্ঞাপনও ঠিক করে পাবেন না। তাই, পুজো করার জন্য এই টাকা দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে, রেজিস্টার্ড পুজোগুলির জন্য বেশকিছু করও মকুব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরকর, দমকলের ফি-ও। এমনকী, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কর মকুব করা হয়েছে। সিইএসসি ও রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের ক্ষেত্রে এই ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

পুজো কমিটিগুলোকে অনুদান দেওয়ার জন্য এর আগেও সমালোচনা হয়েছে সরকারের। কিন্তু এ বার কোভিডের কারণে সরকারের রাজস্ব আদায় প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। তার মধ্যেও এই খয়রাতির নিয়ে সরব বিরোধীরা।

উল্লেখ্য, প্রথমবার পুজোও কমিটিগুলোকে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছর থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া শুরু হয়েছে।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।