স্টাফ রিপোর্টার, খড়গপুর: প্রত্যেক তৃণমূল নেতাকে বয়কট করুন। কারণ তাঁরাই করোনা ছড়াচ্ছেন সব জায়গায়। খড়গপুরে এমনই দাবি করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক বাড়ছে গোটা বাংলা জুড়ে। ইতিমধ্যেই শাসক দলের এক বিধায়ক তমোনাশ ঘোষ করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে এবার তৃণমূলের চিন্তা বাড়িয়ে দিলেন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন খড়গপুর পুরসভার বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান তথা প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য শেখ হানিফ।

তিনি বলেন, “এখানে একজন তৃণমূল নেতা তথা পুরসভার প্রাক্তন উপ পুরপ্রধান নিজে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। ওই তৃণমূল নেতা খড়গপুরের সর্বত্র বেরিয়েছেন। দিল্লির নিজামুদ্দিন থেকে আসা লোকেদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরে এলেন তিনি।”

দুদিন আগেই দিলীপ ঘোষ দাবি করেছিলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তৃণমূল নেতা মদন মিত্র এবং তাঁর পরিবার।যদিও দিলীপের দাবি উড়িয়ে দেন মদন মিত্র। তমোনাশ ঘোষের মৃত্যু নিয়ে দিলীপ সেদিন বলেছিলেন, “তৃণমূল সরকারের কোনও ক্ষমতাই নেই, নিজের লোককেই বাঁচাতে পারল না। দায়িত্বজ্ঞানহীন। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর নেতা মন্ত্রীরা লকডাউন ভেঙে রাস্তায় ঘুরে বেরিয়েছেন। আর কেস খাচ্ছি আমরা।”

অন্যদিকে,  রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাধিক বিষয়ে দুর্নীতি করছে বলে অভিযোগ। ত্রাণ বন্টনেও দলবাজি করছে তৃণমূল, অভিযোগ বিজেপির। প্রতিবাদ করলে বিজেপির ওপর হামলা করছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।

আর এই সমস্ত বিষয়ের প্রতিবাদে আজ শুক্রবার দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দফতরের সামনে ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর। আর সেখানে যাওয়ার পথে রাস্তায় বিশাল পুলিশবাহিনী আটকে দেয় সায়ন্তন বসুকে।

ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বরা। বেশ কিছুক্ষণ পুলিশের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বদের বাদানুবাদের পর অবশেষে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকেই মূলত রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান বলা চলে।

এদিন পুলিশের আটকানো প্রসঙ্গে সায়ন্তন বসু সাংবাদিকদের বলেন, “পূর্ব মেদিনীপুরে যেতে গেলে ভিসা লাগবে নাকি পাসপোর্ট লাগবে? পুলিশ বলতে পারে আমি র‍্যালি করতে পারবো না। কিন্তু আমি যেতে পারবোনা এটা কি মানে দাঁড়ায়? পশ্চিমবঙ্গের কোন গণতন্ত্র নেই। চূড়ান্ত দুরবস্থার মধ্যে দিয়ে চলছে। পুলিশ চাইলে বলতে পারে আমাদের র‍্যালি করতে দেবেনা। কিন্তু পুলিশ এভাবে আটকাতে পারেনা।” সবমিলিয়ে দিলীপ ঘোষের পর সায়ন্তন বসুকে আটকানো নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বিজেপি মহলে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ