হাওড়াঃ  “যাদের মা বাপের ঠিক নেই তাদের এনআরসি ও সিএএ নিয়ে চিন্তা আছে। আমাদের মা বাপ ঠিক আছে। আমাদের চিন্তার নেই।” পুনরায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি হবার পর এক জনসভায় এমনই মন্তব্য করলেন দিলীপ ঘোষ। আর এই নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। দিলীপবাবু এদিন আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে যারা এদেশে অনুপ্রবেশকারী এসেছেন তাঁদের প্রত্যেককেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনে আবেদন না করলে প্রত্যেককেই সমস্যায় পড়তে হবে। আগামী তিন চার মাসের মধ্যে ফর্ম পাঠানো হবে। তাতে সবাইকে সেই ফর্মে যা তথ্য চাইছে তা লিখতে হবে। নরেন্দ্র মোদী একজন সাচ্চা প্রধানমন্ত্রী বলেও মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

একই সঙ্গে দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, মোদী যা বলেন তা কার্যকর করেনই। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ করবেন বলেছিলেন সেটা করেছেন। এবার নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করার কথা বলেছেন। সেটাও তিনি করবেনই। শুধু আধার কার্ড, ভোটার কার্ড দিয়ে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে যথাযথ ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। দিলীপবাবু বলেন, আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড নাগরিকত্বের পরিচয় নয়। সবাইকেই ফর্ম ফিলাপ করতেই হবে। নাগরিক হতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী সবেতেই প্রথমে বিরোধিতা করেন। পরে নিজেই পিছিয়ে আসেন।

পাশাপাশি এদিন দিলীপবাবু ফের বলেন, “যারা সিএএ বিরোধী আন্দোলনের নামে দেশের সম্পত্তি নষ্ট করেছে, বাস, রেল, স্টেশন জ্বালাচ্ছে, রেললাইন উপড়ে ফেলছে তারা কারা ? দেশের কোনও নাগরিক এমন করে নষ্ট করতে পারে না। এরা অনুপ্রবেশকারী, উগ্রপন্থী। তাঁদের ক্ষমা নয়। আমি বলেছিলাম এই উগ্রপন্থী যারা দেশের সম্পত্তি নষ্ট করবে যেদিন আমরা সরকারে আসব তাঁদের গুলি করে মারব। আজকেও সেই কথা বলছি। যখন সিপিএমের আমলে মরিচঝাঁপিতে হত্যাকান্ড চালিয়েছিল, সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের আমলে বহু নকশাল ছেলেকে খুন করা হয়েছিল তখন ঠিক ছিল, আমি যা বলেছি ঠিক করেছি, আবার বলব এবং করব।

দিলীপ ঘোষের আরও দাবি, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। তাদের মারার অধিকার সরকারের আছে। সেকথা আগেও বলেছি। এখনও বলছি। ভবিষ্যতেও বলব।” তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবীরা পরজীবী। দাড়ি আর ঝোলা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন। মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। উদ্বাস্তুদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করা হচ্ছে।মতুয়াদের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে। তখন বিশিষ্টরা কোথায় ছিলেন। কিন্তু দেশে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকলে, কিংবা খাগড়াগড়ের মতো ঘটনা ঘটলে ওরা চুপ করে থাকে। তখন ওদের খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এলে পুলিশ এখনকার মতো নপুংসক হয়ে থাকবে না।

প্রসঙ্গত শুক্রবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ হাওড়ার ডুমুরজলা থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত অভিনন্দন যাত্রা (মিছিল) করেন। এরপর হাওড়া ময়দানে জনসভা করেন তিনি। সেখানেই জনসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা বলেন তিনি। এদিন দুপুরে হাওড়া জেলা সদর বিজেপির তরফ থেকে অভিনন্দন যাত্রার আয়োজন করা হয়। এই মিছিলের সূচনা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু, সঞ্জয় সিং, জেলা বিজেপির সভাপতি সুরজিৎ সাহা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মিছিল শুরু হয় দুপুর সাড়ে তিনটে থেকে। ডুমুরজলা স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয় মিছিল। এরপর নতুন রাস্তা মোড়, দালালপুকুর, নেতাজি সুভাষ রোড হয়ে মিছিল বঙ্গবাসী মোড় বিবেকানন্দ মূর্তির সামনে মিছিল এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে বিজেপির সভায় দিলীপ ঘোষ বক্তব্য রাখেন।