প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর : করোনা আবহেই উৎসবের আনন্দ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে আগামী বুধবার তথা ৫ আগস্ট। এদিনই ঐতিহাসিক অয্যোধায় রাম মন্দিরের শিলান্যাস হবে। আর যা নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে শাসক-বিরোধী জোর তরজা। একদিকে উওরপ্রদেশের প্রশাসনিক কর্তাদের দম ফেলার ফুসরত নেই তখন বাংলায় রামের ভক্তির যে শক্তি তা পরিবর্তন আনবেই বলে জানান বাংলার বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ।

অযোধ্যায় রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের আগের দিন মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পলতায় চা চক্রে যোগ দিতে এসে একথাই বলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অর্জুন সিং, নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক সুনীল সিং, বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উমা শঙ্কর সিংকে পাশে বসিয়ে এদিন দলীয় অনুগামী তথা পলতা অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে দিলীপ ঘোষ বলেন, “২০২১ সালে রাজ্যের পরিবর্তন সময়ের অপেক্ষা । ওরা লকডাউনের তারিখ নিয়ে রাজনীতি করছে। এই লকডাউন উদ্দেশ্যহীন অযৌক্তিক বলে মনে করেন দিলীপ ঘোষ।

শুধু তাই নয়, দিলীপবাবুর দাবি, শুধুমাত্র তোষণের রাজনীতি করতে সমাজের একটা অংশকে খুশি করতে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার দিন লকডাউন ঘোষণা করেছে তৃণমূল সরকার। তবে তাতে আমাদের কিছু যাবে আসবে না বলেই মনে করেন তিনি।

বিজেপি সাংসদের মতে, মোঘল আমলে, ব্রিটিশ আমলেও হিন্দুরা রাম নবমী, রামের পুজো করেছিল। এখনও তাই হবে। রামের ভক্তির যে শক্তি আছে, তাতেই পশ্চিম বাংলায় পরিবর্তন আসবে। তবে দলীয় অনুগামীদের বলছি অতি উৎসাহ নিয়ে আপনারা কিছু করবেন না। বিভিন্ন মন্দিরে কালকের দিনটা পুজো করুন, বাড়িতে পুজো করুন, প্রদীপ জ্বালান। লকাডাউনে বাড়ির বাইরে বেরতে গিয়ে যদি পুলিশ মামলা করে আমরা বুঝে নেব। আমরা মামলায় ভয় পাইনা। এই বারাকপুরের সাংসদের বিরুদ্ধে ৯৩ টি মামলা করেছে। মাননীয় সাংসদ অর্জুন সিংকে বলেছি, যেদিন উনার বিরুদ্ধে ১০০ টি মামলা দেওয়া হবে, সেদিন আমি উনাকে ১০০ টি পদ্ম ফুলের মালা পড়াব।”

এদিন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের কর্মীরা প্রচার করছেন, বিজেপির ৪ সাংসদ, ১ বিধায়ক ও ২০ জন কাউন্সিলর এক সঙ্গে বিজেপি ভেঙে তৃণমূলে যোগ দেবে । খুব শীঘ্রই সেই দিন আসছে বাংলায়।

এই প্রশ্নের জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমাদের দলে সবাই খাটি রাজনৈতিক কর্মী। আমাদের দল তৃণমূলের মত না যে সিটিং এমএলএ তৃণমূল ছেড়ে দল পরিবর্তন করবে। যারা বিজেপিতে আছে তারা ভালো আছে। একজন বিজেপি সাংসদ কেন, একজন বিজেপি কর্মীও দল ছেড়ে তৃণমূলে যাবে না। মাথা খারাপ না হলে কেউ তৃণমূলে যোগ দেয় না। বিজেপিতে এখন কারুর মাথা খারাপ হয়নি ।”

মঙ্গলবার সকালে পলতা রেল স্টেশন সংলগ্ন নেতাজী সংঘ ক্লাবের মাঠে চা চক্রের অনুষ্ঠানে যোগদান করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন দিলীপ ঘোষ দলীয় কার্যকর্তাদের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। বারাকপুর লোকসভা এলাকার পলতায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের এই চা চক্রে সাংসদ অর্জুন সিং, নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং, সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উমা শঙ্কর সিং, বাগদার বিধায়ক দুলাল বর সহ কয়েক হাজার দলীয় কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও