স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কলকাতার প্রাক্তন মেয়র এবং তৃনমূল কংগ্রেসের বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগদান করেছেন। শোভন যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই নারদা কেলেঙ্কারির বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বৃত্তে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে, নারদা কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত মুকুল রায় অন্য অভিযুক্ত শোভন চট্টোপাধ্যায়কে জায়গা করে দিয়েছে বিজেপিতে।

তবে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ নারদা প্রশ্নে বুধবার কিছুটা ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করেছেন। দিলীপ বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকতে পারে। আমাদের সবার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। যদি দেখা যায়, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তখন দল তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”

প্রসঙ্গত, বিজেপি বিরোধীরা বলতে শুরু করেছেন, সিবিআই তদন্ত থেকে বাঁচতে অনেক তৃণমূল নেতাই এখন বিজেপিতে আশ্রয় খুঁজছেন। শোভন চট্টোপাধ্যায় হলেন নতুন সংযোজন।

২০২০ সালে ‘ছোট লালবাড়ি’ বা কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। ২০২১ সালে মহাগুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ছোট লালবাড়ির নির্বাচন ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ। সেই নির্বাচনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে বিজেপি শোভন চট্টোপাধ্যায়কে সামনে রেখেই এগোতে চায় – এমন জল্পনা তৈরি হয়েছে।

বুধবার দিল্লিতে শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় যোগদান করার পর, কলকাতায় রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তাঁদের দলে স্বাগত জানান। এদিন দিলীপ বলেন, দিল্লিতে অনেকেই দলে যোগদান করেছেন। কিন্তু অনেক সময় সেই খবর দল জানতে পারতো না। এটা ঠিক নয়। রাজ্য দলকে জানাতে হবে যে কে দলে যোগ দিতে চলেছেন। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে রাজ্য দলকে জানানো হয়েছিল।

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল কি ভাবে ব্যবহার করবে? দিলীপের জবাব, তিনি একজন অধ্যাপিকা। শিক্ষাবিদ। রাজ্য বিজেপির সঙ্গে অনেক শিক্ষক, অধ্যাপক, চিকিৎসক যুক্ত আছেন। তাঁরা বিভিন্ন ভাবে দলকে সাহায্য করেন। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও এমন কিছু কাজে যুক্ত হবেন।