কলকাতা: লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও পাশ হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল৷ এই বিলের বিরোধীতা করছে তৃণমূল-সিপিএম-কংগ্রেস৷ এই তিনটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷

একটি ভিডিও বার্তায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূল-সিপিএম-কংগ্রেস এরা সবাই বাঙালি বিরোধী৷ অখন্ড ভারতের জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আত্মবলিদান দিয়েছিলেন৷ তাঁর বলিদানের ফলে বাংলা এবং পাঞ্জাব তথা কাশ্মীর ভারতবর্ষের অঙ্গ হয়েছিল৷

সেদিনের বিভাজনের ফলে কত হাজার হাজার হিন্দু বাঙালি পরিবার উদ্বাস্তু হয়ে পূর্ব বাংলা থেকে এই বাংলায় চলে এসেছিলেন৷ যারা বছরের পর বছর কোনও দেশের নাগরিক ছিল না৷ এই বিল পাশের ফলে তারা নাগরিকত্ব পাবে৷ কয়েক প্রজন্ম ধরে তাদের স্বপ্ন ছিল নাগরিকত্ব পাওয়ার, সেই স্বপ্ন আজ সফল হয়েছে৷

অসম প্রসঙ্গে বলেন,এই বিলের বিরোধীতা হয়েছে অসমে৷ সেখানে বাঙালীর নাগরিকত্ব পাওয়ার বিরোধীতা করা হয়েছে৷ ঠিক সেই রকমই পশ্চিমবঙ্গেও উদ্বাস্তু বাঙালিদের বিরোধিতা করছে তৃণমূল৷ বিলের বিরোধীতা করা মানে উদ্বাস্তু বাঙালি পরিবারগুলির নাগরিকত্বের বিরোধীতা করা৷ এরা সত্যিই বাঙালি বিরোধী৷ এদের আসল রূপ চিনে নিন। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না৷

যদিও,সিপিএমের তরফে বলা হয়েছে, বিজেপি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে কেন এত গুরুত্ব প্রদান করেছে তার নেপথ্যে অবশ্যই ‘সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা’ আছে ৷ বৃহস্পতিবার দলের মুখপত্র ‘পিউপিলস ডেমোক্রেসি’তে এই বিষয়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিজেপির কাছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করানো ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই প্রসঙ্গে আনা হয়েছে এনআরসি। কারণ মুখপত্রের সম্পাদকীয় বলছে, “এনআরসি প্রক্রিয়াকে মসৃণভাবে চালিয়ে যেতেই সিএবি অর্থাৎ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল”।

‘পিউপিলস ডেমোক্রেসি’ বলছে, “সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য নিয়েই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করানো হয়েছে, যাতে অসমে বসবাসকারি হিন্দু শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া যায়। পাশাপাশি সেখানকার মুসলিম শরণার্থীদের বাদ দেওয়া আরও সহজ হয়। যেহেতু এনআরসি প্রক্রিয়ায় ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর যারা ভারতে এসেছেন তাঁদের নাম বাদ পড়বে বলেই ঘোষণা করা হয়৷ সেই জন্যই এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় করে তোলা হয়”।