হাওড়াঃ  যখনই পুর নির্বাচন হোক বিজেপি পুরো শক্তি নিয়েই লড়তে প্রস্তুত। এমনটাই বললেন দিলীপ ঘোষ। রবিবার ছুটির সকালে হাওড়ায় গোলমোহরে প্রাতঃভ্রমণে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। পুরভোটের আগে এদিন কর্মীদের সঙ্গে চা চক্রে যোগ দিয়ে গল্প করে জনসংযোগ করেন তিনি।

পুর নির্বাচন নিয়ে রাজ্য সরকার তাড়াহুড়ো করছে কিনা এ বিষয়ে এদিন দিলীপবাবু বলেন, “তাড়াহুড়ো করলে তো ভোট আগে করতে পারত। ওরা চাইছে ফাঁকতালে করে নিতে। বাকি পার্টি যেন প্রচার করতে না পারে। লড়াই করতে না পারে। প্রস্তুতি নিতে না পারে। আমরা বলেছি নিয়ম মেনে নির্বাচন হোক। যখনই নির্বাচন হবে আমরা পুরো শক্তি নিয়েই লড়ব। যদি অনিয়ম হয় নিশ্চয়ই আমরা সেক্ষেত্রে আদালতে যাব। প্রচারের জন্য কমপক্ষে ২৫ দিন সময় দিতে হবে এটাই আদালত জানিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন এখনই হলে প্রচারের জন্য সময় পাওয়া যাবেনা। মাইক ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন নিজে যতক্ষণ পর্যন্ত না পুর নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করছে ততক্ষণ কোনও তারিখই সরকারিভাবে মান্যতাপ্রাপ্ত হবে না। বাস্তবে সেই দিন ঘোষণার পরই প্রচারের জন্য সেই সময় হাতে থাকতে হবে।”

এদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিনই মর্নিং ওয়াক করি। কোথাও না কোথাও যাই। আজকে হাওড়ার কার্যকর্তাদের ইচ্ছে ছিল যেন আমি এখানে একবার আসি। সকালে এসেছি। এখানে বহু মানুষ মর্নিং ওয়াক করেন। অনেকের সঙ্গে দেখা হল। আমাদের কর্মীরাও আজকে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছেন। নির্বাচনী প্রচার পার্টির প্রচার সংগঠনের প্রচার সবই এর মাধ্যমে হয়ে যাচ্ছে। সবার সঙ্গে দেখা হচ্ছে এটা খুবই আনন্দের ব্যাপার।”

মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের কাছে দাবি নিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন এ প্রসঙ্গে দিলীপবাবু বলেন, “কেন্দ্র যখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে ডাকেন তখন উনি যাননা কেন? উনি কেন্দ্রকে চিঠি পাঠিয়েছেন দেখানোর জন্য। উনি মিটিংয়ে যান না কারণ ওখানে গেলে হিসাব চাওয়া হয়। চিঠি দিয়ে একটা প্রচার করার চেষ্টা করছেন। আমাদের কেন্দ্র সরকার কাউকেই প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে না। আমাদের সরকার বহু ফান্ডে বহু টাকা দিচ্ছে। অনেক টাকা ফেরত যায় খরচ হয় না। সেফটি সিকিউরিটি নিয়ে ফান্ড খরচই হয়না। সেটা খরচ করুন। হিসাব দিন। কেন্দ্র সরকার টাকা দেওয়ার জন্য বসে আছে।”

ব্রিগেডের সমাবেশ নিয়ে পুলিশের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমরা যে সমাবেশ করব ঠিক করেছিলাম তাই নিয়ে ডিফেন্সের জায়গায় ডিফেন্সের অনুমতি পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের পুলিশের কেবল যে মাইক পারমিশন দেওয়ার কথা সেটা আমরা আবেদন করেছি। আশা করছি আবেদন মঞ্জুর হয়ে যাবে। পরীক্ষা হয়ে যাবে। তাই আপত্তি থাকার কথা নয়।”