স্টাফ রিপোর্টার, কৃষ্ণনগর: এক্সপায়ারি প্রধানমন্ত্রী বলে লোকসভা ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদীকে লাগাতার আক্রমণ চালিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বলতেন, মোদী সরকারের এক্সপায়ারি ডেট শেষ হয়ে গিয়েছে৷ ২০১৯-এ তারা আর ক্ষমতায় ফিরবে না৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষাতেই এবার তাঁর পরিচালিত সরকারকে আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ জিয়াগঞ্জের ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে কটাক্ষ করে তিনি বললেন, বললেন, ‘এই রাজ্য সরকারের এক্সপায়ারি হয়ে গিয়েছে’।

শুক্রবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে এক বিজেপি নেতার বাড়িতে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই ফের জিয়াগঞ্জ কাণ্ড নিয়ে সরব হন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘নিহত শিক্ষকের দাদা বলেছেন, বন্ধুপ্রকাশবাবু আরএসএস-এর কর্মী ছিলেন না তবে চাঁদা দিতেন। ভাই কোন সংগঠন করতেন তা দাদা জানবেন কী করে। তাছাড়া দু’জনে আলাদা জায়গায় থাকতেন।’ নিজের অবস্থানে অনড় থেকে দিলীপবাবু বলেন, ‘নিহত শিক্ষক ছোটবেলা থেকেই আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিজেপির সমর্থক ছিলেন।’

রেড রোডে রাজ্য সরকার আয়োজিত দুর্গাপুজোর কার্নিভাল প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কার্নিভাল নিয়ে কিছু বলার নেই । একদিকে মানুষ খুন হচ্ছেন আর অন্যদিকে মস্তি হচ্ছে, আনন্দ হচ্ছে, মেলা হচ্ছে। আনন্দ হওয়া উচিত। তা খারাপ কিছু নয়। কিন্তু মানুষের মনে যদি ভয় থাকে, মৃত্যুভয়, অশান্তি থাকে, তাহলে সেই আনন্দের কী মানে হয়?প্রশাসন সামলাতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী লীলা খেলা সামলাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ ভয়ে আছে।’ এর পরই মমতার ভাষায় মমতাকে আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। বলেন, ‘এই সরকারের এক্সপায়ারি হয়ে গিয়েছে। দিদির এক্সপায়ারি হয়ে গিয়েছে।’

দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, কার্নিভ্যালের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। পুজো কমিটিগুলোকে দশ হাজার টাকা থেকে পঁচিশ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। ঘুষ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দিদিমণিকে দিয়ে তাদের পুজো উদ্বোধন করেন। সাধারণ মানুষ পুজোতেও আনন্দ করতে পারছেন না। ভয়ের পরিবেশে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। এই রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু থাকবে না? এই রাজত্ব মানুষ চায় না। এটা চলতে পারে না।

জিয়াগঞ্জের ঘটনার পর এরাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনেরও দাবি তুলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। কিছুদিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের দ্বারস্থ হতে চলেছে রাজ্য বিজেপি৷

উল্লেখ্য, বিজয়া দশমীতে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে। দিনের আলোয় বাড়ির ভিতরে ঢুকে স্কুল শিক্ষক, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছেলেকে খুন করার অভিযোগ উঠে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। মৃত স্কুল শিক্ষকের নাম বন্ধুপ্রকাশ পাল (৩৫), স্ত্রী বিউটি মণ্ডল পাল (৩০) ও তাঁদের বছর আটের ছেলে বন্ধুঅঙ্গন পাল। বিজেপির দাবি বন্ধুপ্রকাশ পাল নামে ওই শিক্ষক আরএসএস-এর সদস্য৷