নয়াদিল্লিঃ  একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফর অন্যদিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি গোটা দিল্লিজুড়ে। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দিল্লির ১০টি এলাকায় হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দিল্লির ঘটনায় এখনও অবধি চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর -পূর্ব দিল্লিতে নাগরিকত্ব আইন সংক্রান্ত বচসায় তিনজন নাগরিক সহ একজন হেড কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গন্ডোগলের মধ্যে পড়ে একজন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভজনপুরিতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া টুডে জানাচ্ছে, একজনের নয়, দুজন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই ঘটনায়। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুই নয়, তিন, এমনটাই জানাচ্ছে ওই সংবাদমাধ্যম। জখম একাধিক।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে গোটা দিল্লিজুড়ে। কোনও ভাবেই এই অশান্তির আঁচ যাতে অন্যত্র ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্যে প্রস্তুত আরপিএফ। উত্তর-পূর্ব জুড়ে পাঁচ কোম্পানি আরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছে মহিলা নিরাপত্তারক্ষীও।

সরকারি একটি সূত্রের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকাকালীন যাতে এই ধরনের ঘটনা ঘটে, সেটা পরিকল্পনামাফিকই করা হয়েছে। যদিও আরও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে এই ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেছেন এক পদস্থ অফিসার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সচিব অজয় ভাল্লা এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বলেছেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসাররা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।’ ঘটনাটি ঘটে উত্তর-পূর্ব জাফরাবাদের মৌজপুর ও ভজমপুরা এলাকায়। জানা যাচ্ছে ইটের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে রতনলাল নামে এক পুলিশের হেড কনস্টেবলের।

বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর চোট পান রতনলাল। তখনই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে এক বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বন্দুক নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। কবীরনগর ও ভজনপুরায় ইট বৃষ্টি ও পেট্রোল পাম্পে আগুনও লাগিয়ে দেওয়া হয়। পাল্টা কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। জানা যাচ্ছে সংঘর্ষে একজন ডিসিপিও গুরুতর আহত।

পরিস্থিতি দেখে দিল্লির মুখ্য়মন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট করেছেন, দিল্লির বিভইন্ন এলাকায শান্তি ও সম্প্রীতি ব্য়াহত হচ্ছে। আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।