সায়ন্তন দাস অধিকারী, লন্ডন: নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি ‘বিলেতের জামাই’ হলে ডিজিটাল জামাই ষষ্ঠী সেলিব্রেট করার মানসিকতা তৈরী করাটা অত্যন্ত জরুরি। মানে বিলেতের মাটিতে খুঁজলে হয়তো বাঘের দুধও পাওয়া যাবে। কিন্তু স্থানীয় বঙ্গভাষী শাশুড়ি পাওয়াটা যে ভীষণই দুস্কর। অগত্যা ভিডিও কলই ভরসা। শাশুড়িদের আশীর্বাদ তো পেতে হবে।

অনেক প্রবাসী বন্ধুর ক্ষেত্রে দেখেছি তাদের শাশুড়িরা কলকাতাতেই রান্না-বান্না করে সেটা আবার ভিডিওতেই উৎসর্গ করে দিলেন জামাইকে। “বাবা, এই দেখো তোমার ফেবারিট মাটন কষা”… কি সিচুয়েশন ভাবুন তো! কতটা ফ্রাস্ট্রেটিং! কে খাবে ওই খাবারগুলো!

তাই “জামাইয়ের নামে মারে হাঁস….” প্রবাদটার বাস্তবিকতা অনেক প্রবাসীরাই যে রন্ধ্রে রন্ধ্রে বুঝে আসছেন এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। এবারের জামাই ষষ্ঠীটার অবস্থা খুব শোচনীয়। এই প্রথম দেশি আর বিলেতের জামাইদের অবস্থা একদম একরকম। পুরো সেম সেম।

 আমফানের পরবর্তী কলকাতায় বিদ্যুৎ ফিরলেও ফোন নেটওয়ার্ক নেই। ব্রডব্যান্ড তো দূর অস্ত। আর সঙ্গী হিসেবে তো আছেই লক ডাউন। কলকাতার কনটেনমেন্ট জোনে যে সমস্ত জামাইদের বাস, তাঁদেরও এবার কোথাও যাওয়ার উপায় নেই।

রেড জোনেরও আবার নানা রকম ভাগ। এ তার কাছে যেতে পারবে না তো সে তার কাছে আসতে পারবে না। এসে পড়লেও সোশ্যাল ডিস্টেনসিং-এর গেরো। এর সঙ্গে সবজি বাজারের আগুনের ব্যাপারটা ধরলামই না। তাই দেশিদের সঙ্গে বিলেতের জামাইদের কপালেও জামাই ষষ্ঠীটা এবার নিদেনপক্ষে ডিজিটালও হচ্ছে না ধরে নেওয়া যেতে পারে।

ব্রিটেনেও চলছে লক ডাউন। তবে শিথিল হচ্ছে ধীরে ধীরে। সেটা পয়লা জুন থেকেই। আগামী ১৫ জুন থেকে দোকানপাট ডিপার্টমেন্টাল স্টোর খোলার নির্দেশ এসে গিয়েছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে বাইরে ঘোরাঘুরিরও নিষেধাজ্ঞা নেই এখন। কিন্তু অফিস কাছারি এখনও বন্ধ। অধিকাংশই তাই এখন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করছেন।

এখানে আসার পর বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে দেখেছি বিশেষ করে যাঁরা তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আছেন তাঁরা এই ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যাপারটায় আগে থেকেই অভ্যস্ত। ফলে উইকএন্ডের অপেক্ষা না করেও সপ্তাহের মাঝখানের এই জামাই ষষ্ঠীটা ডিজিটালে বেশ ভালোই জমে যেত যদি না এই নেটওয়ার্কের বারোটা না বাজাতো।

তবে সত্যি কথা বলতে কি জামাই ষষ্ঠী নয়। বিলেতের জামাইরা এখন অনেক বেশি চিন্তিত তাঁদের জন্মভূমির বর্তমান অবস্থা নিয়ে। সুন্দরবন থেকে শুরু করে বই পাড়া। সবখানকার ছবি অনবরত ঘুরে চলেছে সবার What’s App, ফেসবুকে।

বিলেতের বাঙালি সংগঠনগুলো ছাড়াও ‘বিলেতে বাঙালি’, ‘ইন্ডিয়ান বেঙ্গলিস ইন ইউকে’র মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে এখন শুধু চলছে ত্রাণের আর্জি। আমফান হওয়ার তিন চারদিন পরেও অনেকেই যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁদের বাবা-মা কিংবা নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে। সল্টলেকের মতো জায়গাতেও গাছ পরে গৃহবন্দী হয়েছিলেন অনেকের বাড়ির লোক। খোদ কলকাতা শহরের যে এই হাল হবে এখানে সেটা বোধহয় কেউ দু:স্বপ্নেও ভাবেনি। বিলেতে বসে নিজের জন্মশহরের এই ছবিটা দেখা সত্যিই খুব কঠিন।

তাই আমার সন্দেহ আছে যে আজকের দিনটা কতজনের মাথায় আছে। আমার এই লেখার সময় অবধি কোনও বাঙালি ফেসবুক গ্রুপে তো দেখলাম না যে কেউ সেটা লিখেছে ‘আজ জামাই ষষ্ঠী’।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV