স্টাফ রিপোর্টার, মেদিনীপুরঃ ভোজন রসিক বাঙালির সবচেয়ে পছন্দের খাবার কি? এমন প্রশ্ন যদি কোনও ভেতো বাঙালিকে করা হয় তাহলে উত্তর আসবে অবশ্যই মাছ-ভাত। মাছে ভাতে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। দুপুরে গরম ভাতের সঙ্গে মাছের ঝোল আর তারপরে ঘন্টা খানেক ঘুম কোন বাঙালির না পছন্দ বলুন তো?

গরম ভাত সঙ্গে মাছের ঝোল আয়েশ করে খাওয়া আর তারপরে ভাত ঘুম সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছুরই আজ পরিবর্তন হয়েছে। কাজের ব্যস্ততা এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চলতে হারিয়ে গিয়েছে সেই ভাত ঘুমের দুপুর। কিন্তু ফাঁক পেলে বাঙালি যে এখনও পাতপেড়ে গরমভাত সঙ্গে মাছের ঝোল খেতে একদমই ভোলেন না তা বলাই বাহুল্য। আর সেই পাতে যদি একটা ইলিশ পড়ে যায় তাহলে তো আর কথাই নেই।

তবে এবার বর্ষার খামখেয়ালিপনার কারণে এই বছর ভরা বর্ষাতেও সেই ভাবে বাঙালির পাতে পড়েনি জলের রুপালি শস্য। আর যাও বা বাজারে দেখা মিলেছিল একটু আধটু তার দাম আবার ছিল আকাশ ছোঁয়া। যার জেরে এই বছর কার্যত ইলিশহীন থেকেছে অনেক বাঙালি। বারো বছর বাদে কলকাতায় পদ্বার ইলিশ ঢুকলেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ছোটবড় মার্কেট গুলিতে ইলিশ আসে মূলত দিঘা, শঙ্করপুর এবং কাকদ্বীপ থেকে। তাও এই বছর চাহিদার তুলনায় ইলিশের জোগান ছিল অনেক কম। ফলে বিগত বছর গুলির তুলনায় এই মরশুমে চুটিয়ে ইলিশ উৎসব উপভোগ করতে পারেনি অধিকাংশ বাঙালি।

আর বাজার গুলিতে যাও বা ইলিশ এসে পৌঁছায় সেগুলি কোনটাই জ্যান্ত অবস্থায় থাকেনা। কারন জেলেরা সমুদ্র থেকে ইলিশ ধরলেও বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে তার দেহে আর প্রাণ থাকেনা। মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, জল থেকে ইলিশ তুললেই নাকি সেটা আর বেঁচে থাকে না। আবার অনেকের মতে, বাসী ইলিশ খেতে নাকি হেব্বি টেস্ট।

তবে জাই হোক, মঙ্গলবার দুপুরে ইলিশ নিয়ে দিঘার সমুদ্রে যে দৃশ্য দেখা গেল মুহূর্তের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেল। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মঙ্গলবার দুপুরে দিঘার সৈকতে কর্মরত ওসি সঞ্জয় মাইতির হাতে একেবারে জ্যান্ত ইলিশ। সেই ইলিশ নিজেদের হাতে ধরে ডাঙায় ছেড়ে দেন ওই ওসি।

আর সেকি লাফালাফি! অমন সমুদ্রের জ্যান্ত ইলিশ ডাঙাতে ওই ভাবে লাফাতে কেউ দেখেছেন কিনা তা মনে করতে পারছেন না। শুধু পুলিশ আধিকারিক নিজে নন, এই দৃশ্য দেখে পর্যটক থেকে এলাকার মানুষের মধ্যে উন্মাদনার শেষ নেই। পর্যটকদের মধ্যে সেই ভিডিও তোলার জন্যে হুড়হুড়ি রীতিমত। শুধুই ক্যামেরা বন্দি করা নন, তা সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হতে বেশি সময় লাগেনি।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ