স্টাফ রিপোর্টার, দিঘাঃ  ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে ধেয়ে আসছে ঘুর্ণিঝড় ফণী। পরিস্থিতি রীতিমতো চিন্তার হয়ে উঠছে প্রশাসন। সাম্প্রতিক সময়ে তো বটেই, গত ৪৩ বছরে এখনও পর্যন্ত যতবার সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় হয়েছে তার মধ্যে সবথেকে শক্তিশালী আকার নিয়ে আছড়ে পড়তে চলেছে FANI। দ্য হিন্দু রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৯৪৩ সালের পর এতো শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি হয়নি বঙ্গোপসাগর উপকূল এলাকা।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, FANI ওডিশা উপকূলে পৌঁছাতে পারে ৩ মে। এই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭০-১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ওডিশা উপকূলে ঘণ্টায় প্রায় ২০৫ কিলোমিটার গতিতে আছড়ে পড়বে FANI, এই ঝড়ের তাণ্ডবে একেবারে ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ।

ইতিমধ্যে এই বিষয়ে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে গোটা ওডিশাজুড়ে। পাশাপাশি বাংলাতেও সতর্ক প্রশাসন। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে দিঘা সহ সংলগ্ন সমস্ত সৈকত জুড়ে। চলছে প্রচার। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে যে কোনও মুহূর্তে ওডিশা ও অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ঘূর্ণিঝড় ফণীর। যার অভিঘাত ভয়ালো এবং ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে হওয়া অফিস।

ফণীর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে দিঘা এবং সংলগম উপকূল এলাকায়। স্বাভাবিকভাবে সতর্ক প্রশাসন। বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি ইতিমধ্যে দিঘায় এসে পৌঁছেছেন ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের কর্মীরা। তাঁরাও প্রচার শুরু করেছেন। বেড়াতে আসা, পর্যটক সকলেই বলা হচ্ছে আগামী ৭২ ঘন্টা সমুদ্র উপকূল থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার জন্য। সমুদ্রে স্নান বন্ধে গার্ডওয়ালে দেওয়া হয়েছে দড়ির লক্ষ্মণরেখা।

সেই সঙ্গে মৎস্যজীবিদের মাঝ সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, দিঘা মোহনায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। যারা মাঝ সমুদ্রে রয়েছে তাদের তীরে ফিরে আসার বার্তা পাঠানো হয়েছে। আগামী ৫ ই মে পর্যন্ত মৎস্যজীবিদের সমুদ্রের পাশাপাশি নদীতেও নামতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দিঘা মোহনা ও তাজপুর, শংকরপুর এলাকার মৎস্যজীবিরা তাদের বোট ও নৌকা নিয়ে পাড়ে দাড়িয়ে রয়েছে।