দিঘা: চেয়েছিল বাঁধভাঙা আনন্দের স্বাদ নিতে, কিন্তু একটা ঢেউ যে তাঁদের ঝলমলে জীবনে অভিশাপ হয়ে থেকে যাবে সেটা বোধ হয় জানা ছিল না হুগলির দীপু সেনাপতির। পরিবার নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দিঘা ঘুরতে গিয়েছিলেন হুগলির খানাকুল থানার অন্তর্গত রাজাহাটির বাসিন্দা দীপু সেনাপতি। সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সমুদ্রে স্নান করতে গিয়ে তলিয়ে গেলেন দীপু সেনাপতি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারই হুগলি থেকে একটি বাসে করে দিঘা ঘুরতে আসে জনা পঞ্চাশের একটি দল। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন দীপু সেনাপতি, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের ছেলে। জানা গিয়েছে, রাতেই তাঁদের দলটি দিঘা এসে পৌঁছয়। রাতে নিউ দিঘার একটি হোটেলেই ছিল তাঁরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ দীপু ও তার স্ত্রী তাঁদের ছেলেকে পরিবারের অন্যান্যদের কাছে রেখে দিঘা পুলিশের হলিডে হোম লাগোয়া ক্ষণিকা ঘাটে দুজনে মিলে স্নান করতে যান। জানা গিয়েছে, সেই সময়ে সমুদ্রে জোয়ার শুরু হওয়ায় উত্তাল হতে থাকে সমুদ্র। গার্ডওয়াল ভেঙে জল ঢুকতে থাকে সেখানে।

সেই সময়ে স্থানীয় পুলিশ এবং সমুদ্রের নুলিয়ারা পর্যটকদের সমুদ্র থেকে উঠে আসার অনুরোধ করতে থাকেন। নুলিয়াদের কথায়, ‘ ওরা দুজনে হয়ত উঠে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেনও কিন্তু আচমকাই বড় একটা ঢেউয়ের ধাক্কায় ছিটকে যায় ওরা’।

পুলিশ জানিয়েছে, ওরা দুজনে যেহেতু উঠে আসার চেষ্টা করছিল তাই পিছন থেকে আসা ঢেউয়ে তাঁরা কেউই সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাইনি। দুর্ঘটনাটি ঘটার সময় ওই এলাকায় উপস্থিত ছিল আরও একদল পর্যটক। তাঁরা পুলিশকে জানিয়েছে, ‘যে সময় সমুদ্রে জোয়ার আসছিল তখন ওই দম্পতি অন্যদের থেকে একটু দূরে গিয়েই স্নান করছিলেন। তখনই আচমকা উত্তাল ঢেউ এসে পরে ওদের উপর মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায় ওই দম্পতি’। অন্যদিকে নুলিয়ারা জানিয়েছেন, ওই মহিলা ঢেউয়ের তোড়ে দূরে ভেসে যাচ্ছে দেখে তাকে বাঁচাতে জলের আরও গভীরে চলে যান দীপু সেনাপতি। তাঁদের দুজনকে বাঁচাতে ততক্ষণে জলে নেমে পড়েছিলেন নুলিয়ারা।

নুলিয়ারা জানিয়েছেন, ‘মহিলার স্বামী তাকে আমাদের দিকে ঠেলে দিলেও ততক্ষনে আরেকটি ঢেউয়ে ভেসে যান নিজে, তখনই তাকে না পাওয়া গেলেও পরে আরেকটি ঢেউ ফিরিয়ে দেয় তাঁকে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে উদ্ধার করে পাঠানো হয় দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে তৎপরতার সঙ্গে চিকিৎসা শুরু হয়।

জানা গিয়েছে, স্ত্রী বেঁচে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি দীপুর। ফুসফুসে অতিরিক্ত জল জমায় ডাক্তাররা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ দেহটি ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া গোটা ঘটনায় শোকস্তব্দ হয়ে পড়েছে গোটা পরিবার।