মেদিনীপুর: দিঘার হোটেলে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ঘরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ। তাঁর হাত দুটি রুমাল দিয়ে বাঁধা ছিল। হোটেলের ঘরের দরজা একেবারে হাট করে খোলা। শুধু তাই নয়, মৃত ওই গৃহবধূর সঙ্গে থাকা ৪ বছরের ছেলেটি ঘুরছিল ঘরের বাইরের ব্যালকনিতে। গতকাল বুধবার সকালে এহেন দৃশ্য দেখে কার্যতই হতভম্ব হয়ে যান হোটেলের কর্মীরা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে নিউ দিঘার সরকারী বাসডিপো’র ঠিক উল্টোদিকে। কার্যত ভয়ঙ্কর এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকা। শুধু তাই নয়, সাধারণ পর্যটকদের মধ্যেও ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।

পড়ুন আরও- দিঘার সমুদ্রে অদ্ভুত এক ঘটনা, সাক্ষী থাকলেন কয়েক হাজার মানুষ

হোটেল সূত্রে খবর, ওই গৃহবধূ মঙ্গলবার তাঁর বছর ৪-এর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে একাই এসে উঠেছিল। কিন্তু হোটেল কর্মীরা বুধবার সকালে দেখে শিশুটি একাই ঘুরছে ব্যালকনিতে। দীর্ঘক্ষণ ওই গৃহবধূর কোনও খোঁজ না থাকায় হোটেল কর্মীদের মধ্যে স্বভাবতই কৌতূহল তৈরি হয়। আর তখনই ঘরের ভেতরে উঁকি দিয়েই সবার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। হোটেল কর্মীরা ওই গৃহবধূকে একেবারে হাত বাঁধা অবস্থায় ঝুলতে দেখেন।

পড়ুন আরও- আধার কার্ড নিয়ে বড় সুখবর দিল মোদী সরকার, খুশি সাধারণ মানুষ

মৃত ওই গৃহবধূর নাম পিয়ালি দেড়ে (২০)। তিনি যে আধার কার্ড হোটেলে জমা করেছিলেন সেখানে তাঁর ঠিকানা রয়েছে হুগলীর ডানকুনির হিমনগরের ক্ষুদিরাম বসু পল্লির বাসিন্দা। দিঘা হোটেলে অলিখিত নির্দেশ রয়েছে কোনও মহিলা বা পুরুষ একা দিঘায় বেড়াতে এলে তাঁকে ঘর দেওয়া হয় না। কিন্তু ওই মহিলা তাঁর কোলে একটি শিশুকে নিয়েই সোমবার বিকেলে হোটেলে এসে উঠেছিলেন। ঘটনার প্রাথমিক পরিস্থিতি দেখার পর পুলিশের ধারণা মহিলাকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে হোটেলে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে সমস্যা হচ্ছে পুলিশের।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন কাঁথি’র সার্কেল ইন্সপেক্টর সুজয় মুখার্জী সহ পুলিশ কর্মীরা। প্রসঙ্গতঃ গত কয়েকদিন আগেই দিঘার একটি হোটেলে পর্যটকের ঘরে ঢুকে চুরি করে পালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। এবার হোটেলের ঘরে ঢুকে পর্যটক মহিলাকে খুন করার ঘটনা সামনে আসার পর দিঘার হোটেলগুলির সুরক্ষা নিয়ে জোরাল প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, প্রশ্নের মুখে পড়েছে দিঘা পুলিশের ভূমিকাও।

পড়ুন আরও- ৭০ কোটির বেশি খরচে তৈরি প্রকল্প, উদ্বোধনে দিঘায় যাচ্ছেন মমতা