দীঘা: উলট পুরাণ! নিম্নচাপের জেরে সারা রাজ্যের জনজীবন বিপর্যস্ত৷ অবিরাম বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে দীঘায় উথাল পাতাল করা ঢেউ! ফলে কালীপুজোর ছুটি নিয়ে যে সব পর্যটক আগে থেকে হোটেলের ঘর বুক করে রেখেছিলেন, তারা এদিন সমুদ্র উপভোগ করলেন সুদে আসলে৷ পর্যটকে ঠাসা পূর্ব মেদিনীপুরের নিউ দীঘা, ওল্ড দীঘা, মন্দারমনি, তাজপুর৷

অনেক সময় সমুদ্রের তীব্র জলোচ্ছ্বাস দেখতে না পেয়ে নিরাশ হয়েই ফিরতে হয় পর্যটকদের৷ কিন্তু নিম্নচাপের জেরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে দীঘার উপকূলে বঙ্গোপসাগরে তীব্র জলোচ্ছ্বাস৷ সেই দৃশ্য দেখে অনেকেরই মন হু হু করে উঠতে পারে৷ হুজুগে বাঙালীর কেউ কেউ রওনাও দিতে পারেন৷ কিন্তু এই মুহূর্তে পূর্ব মেদিনীপুরের প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রেই কার্যত ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই’ হাল!

 পড়ুন: ফুঁসছে সমুদ্র, তীব্র জলোচ্ছ্বাস দীঘায়

দীঘা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, ‘‘কালীপুজোর সরকারি ছুটির পরই শনি ও রবিবার৷ ফলে অনেক আগে থেকেই টানা চারদিনের বুকিং হয়ে গিয়েছিল অধিকাংশ হোটেলে৷ বেশিরভাগ পর্যটকই চলেও এসেছেন৷ ফলে এই মুহূর্তে সমুদ্র এলাকা পর্যটকে ঠাসা৷’’

সপরিবারে চারদিনের ছুটিতে দীঘায় গিয়েছেন দমদমের স্কুল শিক্ষিকা অহনা চৌধুরী৷ বললেন, ‘‘বহুবার দীঘায় এসেছি৷ বেশিরভাগ বারই সমুদ্রের তীব্র জলোচ্ছ্বাস না দেখে হতাশ মনেই ফিরতে হয়েছে৷ তাই মনে একটা দুঃখ ছিল৷ কিন্তু এবার দীঘা সুদে-মূলে সব ফিরিয়ে দিল বললেও কম বলা হয়৷ এই জলোচ্ছ্বাস কোনওদিন ভুলব না৷’’

একই অভিমত বাঁকুড়ার অসীম চট্টোপাধ্যায়ের৷ স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে দীঘায় পৌঁছেছেন অসীমবাবু৷ বলছিলেন, ‘‘উফ, ভাবা যায় না৷ দিনভর শুধু পাড়ে আছড়ে পড়ছে ঢেউ৷ বৃষ্টিতে ভিজতেও বেশ লাগছিল৷ এই দৃশ্য কখনও ভুলব না৷’’

অগত্যা, নিম্নচাপের জেরে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের মানুষ যখন নাস্তানাবুদ হচ্ছেন, দীঘা তখন যেন হয়ে উঠেছিল এক অন্য গ্রহের ঠিকানা৷ যদিও সমুদ্রে তীব্র জলোচ্ছ্বাস থাকায় শুক্র ও শনিবার মৎস্যজীবীদের সাগরে নামতে

নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন জেলাশাসক রশ্মী কমল৷ দীঘা উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান তথা রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি এদিন এলাকার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন৷ বললেন, ‘‘কোনও অঘটন যাতে না ঘটে সেজন্য প্রশাসনের তরফে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷’’

দীঘা মানেই দুঘর্টনা৷ বারে বারে সমুদ্রে পর্যটক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে৷ প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে জেলা প্রশাসনকে৷ স্বাভাবিকভাবেই, ভিড়ে ঠাসা পর্যটকদের মধ্যে অতি উৎসাহীরা যাতে সমুদ্রে নেমে পড়তে না পারেন তাই দীঘা, মন্দারমনি জুড়ে কড়া পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা চোখে পড়েছে৷ ছিলেন সিভিক ভলান্টিয়ার ও নুলিয়ারা৷ এছাড়াও বিপর্যয় মোকাবিলার সদস্যদেরও আগে থেকে তৈরি রাখা হয়েছে৷

প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যে থেকেই পাড়ে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের জলে গা ভিজিয়ে অনাবিল আনন্দে মাতলেন পর্যটকরা৷ শনি ও রবিবার ছুটি থাকায় আগামী দু’দিনও একই দৃশ্য বজায় থাকবে৷

- Advertisement -