স্টাফ রিপোর্টার, দিঘা: শুধু একটা ‘য’ ফলার তফাৎ কী? না। অর্থে-মর্মে বেশ পার্থক্য সাধ আর সাধ্যের মধ্যে। একটা সময় সাধ থাকলেও অকুলান ছিল সাধ্যের। তাই তো পিছিয়ে পড়ে ছিলেন তাঁরা। প্রয়োজন ছিল আধুনিকতা, উন্নত পরিকল্পনা আর দিশার। তবে সেই ঘাটতি মিটেছে৷

এখন আক্ষরিক অর্থেই সমৃদ্ধ বাংলার দুই মেদিনীপুরের পট, মাদুর, নদিয়ার পুতুল, জঙ্গলমহলের ছৌ, নাটুয়া নৃত্য, রায়বেশে নৃত্য প্রভৃতি লোকশিল্প এবং সংস্কৃতি। সবকিছুকে একই জমিতে জড়ো করে এখন রোজই নতুন নতুন পরিকল্পনায়, নতুন রঙে সমৃদ্ধ হচ্ছে বাংলার সংস্কৃতি৷

প্রসিদ্ধি ছড়িয়েছে দেশের আঙিনা ছাড়িয়ে বিদেশেও৷ শিল্পীদের কথাতেই স্পষ্ট তাঁরা নতুন ভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন৷ কারণ শিল্পের বিপণন, প্রচারে কোনও খামতি রাখতে নারাজ রাজ্য খাদি ও গ্রামীণ শিল্প উন্নয়ন পর্ষদ ও সহযোগী সংস্থাগুলো। সে লক্ষ্যেই বিপণন-বিনোদন এবং ভ্রমণ এই তিনকে পুঁজি করে বেশ হইহই করে দিঘায় শুক্রবার সন্ধেয় শুরু হল দিঘা লোক মেলা।

পট,পুতুল,মাদুরের শিল্পসম্ভারে রঙিন মেলার আসর বসেছে ওল্ড দিঘার সি হক ঘোলা সংলগ্ন সৈকত। মেলার রঙিন সন্ধে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে বাংলার ছৌ-বাউল আর ডেনমার্কের ‘ওরিয়েন্টাল মুড’ দলের শিল্পীদের সুরের সমন্বয়ে। মেলা চলবে রবিবার পর্যন্ত। শুরুতেই জমে উঠেছে মেলা।

মেলার সূচনায় এসে বেশ প্রশংসা করে গেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল, কাঁথির মহকুমা শাসক শুভময় ভট্টাচার্য, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুমন বিশ্বাস, বিডিও আশিস রায়, বিধায়ক অর্ধেন্দু মাইতি প্রত্যেকেই। আরও বেশি সংখ্যায় এমন মেলার আয়োজন করার আহ্বান জানান তাঁরা। গ্রাম, শিল্পী এবং শিল্পের প্রচার এবং প্রসারের লক্ষ্যে দ্বিতীয় বর্ষের দিঘা লোক মেলার আয়োজন বলে জানিয়েছেন আয়োজকদের অন্যতম বাংলা নাটক ডট কমের ডিরেক্টর অমিতাভ ভট্টাচার্য।