স্টাফ রিপোর্টার, দিঘা : দেবী দুর্গা পাড়ি দিয়েছেন কৈলাশে। তবুও পুজোর রেশ কাটেনি আম বাঙালির মনে। রোজই কাতারে কাতারে মানুষের ভিড় জমছে সমুদ্র সৈকত দিঘাতে।

ফলে লকডাউনের পর ঘুরে দাঁড়ানোর কিছুটা শক্তি পেয়েছে সৈকতের পর্যটন ব্যবসা। কিন্তু প্রশ্নের মুখে পড়ছে সোশ্যাল ডিসটেস্ট-করোনা সতর্কতা। পর্যটক আসছে, বাড়ছে ব্যবসা! এই অবস্থা হাসি ফুটছে দিঘা এলাকার পর্যটন ব্যবসায়ীদের মুখে।

তবে পুজোর ছুটিতে অতিরিক্ত ভিড় ভয়ঙ্কর ভাবে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কোভিড সংক্রমনের। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক বিধি শিকেয় তুলে এক শ্রেণীর পর্যটক মেতে উঠেছেন সৈকত উপভোগে। যা-ই এখন দিঘার মূল আশঙ্কার বিষয়। ভোজন রসিকের পাশাপাশি বাঙালির এক অন্যতম নাম হল ভ্রমণপিপাসু।

ছোটখাটো কোনও ছুটি হাতে পেলেই বাঙালি পরিবার-পরিজনদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ভ্রমণে। সে পাহাড় হোক বা সমুদ্র। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিঘা। সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে যেকোনো সময় অল্প খরচে বেড়িয়ে আসা যায় দিঘা থেকে।এক শ্রেণীর মানুষের রুটিরুজি দিঘার পর্যটন ব্যবসার উপরেই জড়িয়ে।

কিন্তু সেই দিঘার পর্যটন ব্যবসা সাম্প্রতিক দীর্ঘ কয়েক মাসের লকডাউনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তবে বাঙালির উৎসবের আবহ ফিরিয়ে দিল দিঘার পর্যটন ব্যবসার হাল। কিন্তু যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে মাস্ক ছাড়া পর্যটকদের ঘোরাফেরা বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের। অন্যদিকে, আজ থেকে ঠিক এক মাস পিছিয়ে গেলে দেখা যাবে দিঘা সেভাবে পর্যটকের আগমন ঘটেনি।

তবে পুজোর মরসুমে ইতিমধ্যে ভীড় জমতে শুরু করেছে দিঘাতে। দিঘা সহ আশেপাশের এলাকার সমস্ত হোটেল ও লজ গুলি এখন পর্যটকে পরিপূর্ণ। দেদার চলছে সমুদ্র স্নান। দিঘার বর্তমান পরিস্থিতি দেখলে কেবা বলবে দেশে করোনা পরিস্থিতি? রোজ হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমতে দিঘায়। স্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘন করে চলছে সমুদ্র স্নান। মাস্ক পরছেন না বহু পর্যটকই।

পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় এহেন ঘটনা ঘটে চললেও ভ্রুক্ষেপ নেই তাদের। তবে বর্তমানে যেভাবে কাতারে কাতারে মানুষের ভিড় জমেছে সৈকত শহরে তাতে করে দীর্ঘ কয়েক মাসের লকডাউনের পর পর্যটন ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পুজোর মরসুমে সমস্ত হোটেল এখন বুকিং। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বেশিরভাগ মানুষ আসছেন দিঘাতে। যার মূল কারণ পুজোর ছুটি।

এদিকে ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক না থাকায় নিজস্ব গাড়ি ভাড়া করে সৈকতের শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতে আসছেন পর্যটকরা। পুজোর মরশুমে হঠাৎ করে এভাবে পর্যটন ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়াবে তা ভাবতেও পারেননি ব্যবসায়ীরা। দিঘার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষের রুজি-রুটির জড়িয়ে রয়েছে। তাই বর্তমানে পুজোর মরশুমে পর্যটকদের আগমনে হাসি ফুটছে সকলের।

তবে অন্যান্য বছর পুজোর সময় যেভাবে পর্যটকের আগমন ঘটে দিঘাতে সেই পরিমান পর্যটক নেই চলতি বছরে। কলকাতা থেকে বেড়াতে আসা এক পর্যটক সৌহার্দ্য দাস বলেন, “অনেক দিন পর দিঘাতে বেড়াতে এলাম। দীর্ঘ লকডাউনে একেবারে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছিলাম। পুজোর ছুটিতে দিঘায় আসতে পেরে প্রাণ খুলে শ্বাস নিতে পারছি।” তবে রেল পরিষেবা স্বাভাবিক হলে অন‍্যান‍্য বছরের মতো ভিড় জমার আশায় দিঘার ব্যবসায়ীরা।

দিঘা হোটেল মালিক সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, “দীর্ঘ লকডাউনের পর পুজোর ছুটিতে পর্যটকরা দিঘায় বেড়াতে আসছেন। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় তা যৎসামান্য। যারা আসছেন তাঁরা সকলেই নিজস্ব গাড়ি ভাড়ায় করে আসছেন। রেল পরিষেবা স্বাভাবিক হলে আরও পর্যটকদের ভিড় জমবে।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।