দিঘা: কানে হেডফোন লাগিয়ে রেল লাইনে বসে মোবাইল গেম খেলতে গিয়ে বিপত্তি। ট্রেনের হর্ন শুনতে না পেয়ে প্রাণ গেল দুই যুবকের। সতর্কতামূলক প্রচারই সার। কিছুতেই ফিরছে না হুঁশ। কানে হেডফোন লাগিয়ে ও মোবাইল গেমে মত্ত দুই যুবকের মর্মান্তিক পুরিষমতি। মুহুর্তের অসতর্কতায় ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল দুই যুবকের। বুধবার বছরের শুরুর দিনে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর থানার দিঘা-তমলুক রেল লাইনের উপর।

মোবাইলে অনলাইন গেমে মত্ত ছিলেন দুই যুবক। ওই অবস্থাতেই রেল লাইনের উপরে বসেছিলেন দু’জন। মোবাইলে গেমে এতটাই মত্ত ছিলেন যে খেয়ালই করেননি পিছন থেকে ধেয়ে আসছে ট্রেন। দুই যুবককে লাইনের উপর দেখে আগে থেকেই হর্ন বাজাতে শুরু করেছিলেন ট্রেন চালক। কিন্তু সেই হর্ন কানেই পৌঁছোয়নি দুই যুবকের। ট্রেন চালক সজোরে ব্রেক কষলেও হয়নি শেষ রক্ষা। ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই যুবকের।

রেল পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন সন্ধেয় দিঘা-তমলুক রেল লাইনের বিরামপুরের কাছে রেললাইনের উপর বসে মোবাইলে গেম খেলছিলেন বিরামপুরের বাসিন্দা অপূর্ব দাস ও ফতেপুরের সুব্রত পাত্র। দুই যুবকের কানেই ছিল হেডফোন। ঠিক সেই সময় দিঘা থেকে হাওড়ার উদ্দেশ্যে ছুটে আসছিল কান্ডারী এক্সপ্রেস। রেল লাইনের উপর দুই যুবককে বসে থাকতে দেখে দূর থেকেই হর্ন বাজাতে শুরু করেন ট্রেন চালক। কিন্তু একাধিকবার হর্ন বাজালেও দুই যুবক লাইন থেকে সরছেন না দেখে শেষমেশ সজোরে ব্রেকও কষেন কান্ডারী এক্সপ্রেসের চালক। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছিল। চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় লাইন থেকে ছিটকে পড়েন দুই যুবক। দু’জনেরই শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই যুবকের।

এদিকে এই দুর্ঘটনার পরেই দাঁড়িয়ে যায় ট্রেনটিও। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দিঘা জিআরপি পুলিশ। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।