দিঘাঃ নতুন বছরকে কেন্দ্র করে রাজ্য পর্যটনের সমস্ত স্থানগুলিতে তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। আর এই উৎসবের আবহে বড়দিনের দিন পর্যটকদের আগমনে কিছুটা ভাটা পড়লেও বছরের শুরুতে একেবারে পহেলা জানুয়ারিতে থিকথিকে ভিড় জমলো রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে অন্যতম পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিঘা সমুদ্র সৈকতে। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দিঘার সৈকত পর্যটকদের ভাটা পড়েছিল।

যার ফলে উৎসবের আবহেও কোথাও যেন তাল কেটেছিল দিঘাতে। এক সপ্তাহ আগে বড়দিনেও বিগত বছরগুলোর মতো পর্যাপ্ত ভিড় জমেনি দিঘাতে। কিন্তু একেবারে বছরের শুরুতে যেন দিঘার চিত্রটা উলটপালট।

গত বর্ষবরণের রাত থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে দিঘায় শুরু হয় পর্যটকদের আগমন। সকাল হতেই একেবারে ভিড়ে উপচে পড়ে দিঘার সৈকত চত্বর। দিঘার পাশাপাশি বুধবার পর্যটকদের ভিড়ে জমে উঠেছে তাজপুর, মন্দারমনি, শঙ্করপুর প্রভৃতি সৈকত এলাকাগুলি। একেবারে বছরের শুরুতে পর্যটকদের ভিড় সারপ্রাইজ গিফট হিসেবে ধরছেন ব্যবসায়িক মহল। যে হারে গত কয়েকদিন দিঘায় পর্যটকের ভাটা নেমে এসেছিল। তাতে কোথাও যেন মাথায় চিন্তার হাত পড়েছিল ব্যবসায়ীদের। উইকএন্ডের ছুটিগুলিতে আশেপাশের জেলাগুলো থেকে অল্পবিস্তর ভিড় জমলেও তা ছিল ক্ষণিকের। আর এই ক্ষণিকের পর্যটক আগমনকে একেবারে ছাপিয়ে গেল বছরের প্রথম দিন।

গতকাল বুধবার সকাল থেকেই দিঘার বিভিন্ন ঘাটে ঘাটে ছিল পর্যটকদের বিশেষ ভিড়। কোন রকম সমস্যার সম্মুখীন যাতে পর্যটকদের হতে না হয় সেজন্য পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে রাখা হয়েছিল বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বছরের প্রথম দিনেই একেবারে ব্যবসায় আলোর মুখ দেখে দিঘার এক হোটেল মালিক বলেন, “বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবছর পর্যটকদের সংখ্যা তুলনামূলক কম বলা চলে। কিন্তু ডিসেম্বর কাটিয়ে জানুয়ারির একেবারে প্রথম দিনেই একটু হলেও ভিড় বেড়েছে। তাই হোটেল এর বেশিরভাগ রুমই বুকিং হয়ে গেছে।”

বর্ষবরণের রাতে রঙিন আলোয় সেজে উঠেছিল সমগ্র দিঘা সুন্দরী। রঙিন ঝলমলে আলোর পাশাপাশি আতশবাজির রোশনায় দিঘা যেন একটুকরো গোয়ার ছোঁয়া পেয়েছিল। কলকাতা থেকে বছরের প্রথম দিন দিঘায় বেড়াতে এসেছিলেন পর্যটক তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দিঘায় সত্যিই আগের থেকে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সত্যিই বছরের প্রথম দিন দিঘা কে এইভাবে নবরূপে দেখতে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। এরজন্য আমি প্রশাসনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।”

সবমিলিয়ে বলা চলে বছরের প্রথম দিন একেবারে জমজমাট দিঘার সমুদ্র সৈকত। সৈকত চত্বরের পাশাপাশি দিঘায় এদিন ভিড় জমেছিল আশেপাশের হোটেল- রেস্টুরেন্টগুলিতেও। তবে পর্যটকরা যাতে কোনরকম দুর্ঘটনার মধ্যে না পারেন সেজন্য সদা তৎপর ছিল পুলিশ প্রশাসন। বিশেষ এই দিনের জন্য দিঘায় রাখা হয়েছিল বিশেষ নুলিয়া বাহিনীও। ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমেও দিনভর চলে নজরদারি।