তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া : ছেলে মেয়ের জন্ম দিনে অভিনব উদ্যোগ বাঁকুড়ার বিশিষ্ট কবি দম্পতির। ছেলে দীপ্তার্ক আর মেয়ে দীপ্তাশার সপ্তম জন্ম দিনে বাড়িতে জমকালো অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ বাতিল করে দেন কবি দম্পতি গৌরীশঙ্কর সিনহা ও শ্রাবন্তী বটব্যাল৷ তার বদলে অনাথ আশ্রমের ছেলে মেয়েদের হাতে তুলে দিলেন খাতা, পেন্সিল, কেক, চকোলেট থেকে বেশ কিছু অঙ্কন সামগ্রী। অভিনব এই ভাবনায় খুশি পুয়াবাগান সংলগ্ন ভাতুড়ি অনাথ আশ্রমের কচি কাঁচারা।

গৌরীশঙ্কর সিনহা ও শ্রাবন্তী বটব্যাল তাঁদের লেখনীর জোরে বাঁকুড়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে সারা রাজ্যের সাহিত্য মহলে অতি পরিচিত নাম। ইতিমধ্যে বেশ কিছু সম্মানে তারা সম্মানিত হয়েছেন। বর্তমানে বাঁকুড়া শহর সন্নিকটস্থ হেভির মোড়ের বাসিন্দা এই কবি দম্পতির যমজ সন্তানের জন্মদিনে অভিনব এই ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার শিল্প সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরাও।

বাবা মায়ের উদ্যোগে ‘অভিনব’ জন্মদিন পালনের ভাবনায় খুশি একটি নামী বেসরকারী স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে পাঠরত দীপ্তার্ক ও দীপ্তাশাও। তাদের কথায়, প্রতিবছর বাড়িতেই সবাইকে নিয়ে আমাদের জন্মদিন পালন করা হয়। বন্ধুরাও বাড়িতে আসে, কেক কাটা হয়। নানান ধরণের খাবারের আয়োজন করা হয়। সব মিলিয়ে বেশ আনন্দেই কাটে। তবে এবছরের জন্মদিনটা আরো ভালো কাটলো। এক সঙ্গে অনেক দাদা, দিদি, ভাই, বোনদের সাথে জন্মদিনটা কাটাতে পেরে বেশ ভালো লেগেছে বলেই তারা জানায়।

এবিষয়ে বিশিষ্ট কবি গৌরীশঙ্কর সিনহা ও কবি শ্রাবন্তী বটব্যাল বলেন, হাজারো কর্মব্যস্ততায় আমরা চাইলেও এই সব ছোটো ছোটো অনাথ শিশুদের জন্য কিছুই করতে পারিনা। তাই আমরা আগে থেকেই ঠিক করেছিলাম, রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতে ছেলে মেয়ের জন্মদিনে আমরা ওদের কাছেই যাবো। সবার সাথে আনন্দ আর হুল্লোড়ে জন্মদিন পালন করা হবে। তাই আলাদা করে জন্মদিনে কোন খরচ না করে সেই টাকায় কচি কচি মুখ গুলিতে হাসি ফোটানোর উদ্যোগ নিই। আজকের এই খুশি মুখ গুলি আগামী দিনে তাদের আবারো ঐ আশ্রমে টেনে নিয়ে যাবে বলে তারা জানান।