বুয়েনস আইরস: মানুষই দেবতা গড়ে, মানুষই দেবতা ভাঙে… কবিশেখর কালিদাস রায়ের অমর সৃষ্টি এই কথাগুলি বহুবার প্রমাণ হয়েছে৷ সেই মানব ঈশ্বর অর্থাৎ চিকিৎসকদের অক্লান্ত চেষ্টায় সুস্থ হলেন ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা৷

পাকস্থলীতে ক্রমাগত রক্তক্ষরণের ফলে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে হয়েছিলেন আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কে৷ তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় সংকট কাটিয়ে দিয়েগো ফিরে গিয়েছেন বাড়িতে৷ হাঁফ ছাড়ল ফুটবলবিশ্ব৷ স্বস্তি পেলেন ক্রীড়ামোদীরা৷ চিরাচরিত ভঙ্গিতে ডোন্ট কেয়ার মনোভাব দেখিয়েছেন মারাদোনা৷ তাঁর আবেগ নিয়ে বারবার আলোড়িত হয়েছে দুনিয়া৷ সেই আবেগ মিশিয়েই মারাদোনা জানিয়েছেন, ‘আমি ভালো আছি’৷

আর্জেন্তিনার রাজধানী শহর বুয়েনস আইরসের হাসপাতালের বুলেটিনে চোখ রেখেছিলেন ভক্তরা৷ কারণ ভিতরে মানব ফুটবল ঈশ্বর তখন পাকস্থলীর যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন৷ অনবরত রক্তপাত হচ্ছিল৷ দুর্বল হয়ে পড়ছিলেন সবুজ মাঠের একদা দুরন্ত ঘোড়া৷ ততই বাড়ছিল উৎকণ্ঠা৷ ভক্তরা জানেন মারাদোনার বেহিসেবি জীবন যাপনের কথা৷ সেই কারণেই কি পাকস্থলীতে কিছু হয়েছে ? প্রশ্ন ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে৷

পরে কিংবদন্তি ফুটবলারের কন্যা জানিয়ে দেন, বাবার শরীর ঠিক আছে৷ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে তিনি জানান, বাবা নিয়মিত চেক আপ করাতে গিয়েছিলেন৷ তখনই রক্তক্ষরমের ব্যাপার ধরা পড়ে৷ চিন্তার কোনও কারণ নেই। বাবা এখন বাড়িতে সুস্থ আছে। বিবিসি জানাচ্ছে, সুস্থ মারাদোনা-এই সংবাদে আর্জেন্তিনাবাসী যেন প্রাণ ফিরে পেলেন৷ ফুটবলকে বিদায় জানানোর পর দু-দু’বার কলকাতা ঘুরে গিয়েছেন মারাদোনা৷ গত বছরও তিলোত্তমায় পা-পড়েছিল ফুটবলঈশ্বরের৷

আর্জেন্তিনার হয়ে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী মারাদোনা গত বছর রাশিয়া বিশ্বকাপের মাঝেই অসুস্থ হয়েছিলেন৷ তখন আর্জেন্তিনা বনাম নাইজেরিয়া ম্যাচ চলছিল৷ তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে৷ ফের লিভার থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকায় দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়েছিল৷ চিকিৎসকদের অনুমতি পেলেই ফের সবুজ মাঠে ফুটবলের সঙ্গে কোলাকুলি করতে মুখিয়ে রয়েছেন মারাদোনা৷ এখন তিনি মেক্সিকোর দোরাদোস দে সিনালোয়ার ক্লাবের কোচ হিসেবে দায়িত্বে৷