ভোপাল : দিগ্বিজয় সিংকে যজ্ঞে আমন্ত্রণ জানাই নি, নির্বাচন কমিশনের পাঠানো নোটিশের উত্তরে বললেন কম্পিউটার বাবা। মঙ্গলবার থেকে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে প্রচার শুরু করেছেন তিনি। মধ্যপ্রদেশের জনপ্রিয় কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংয়ের জন্য আয়োজন করেছিলেন বিশাল যজ্ঞানুষ্ঠানের। যাতে সামিল হয়েছিলেন খোদ ভোপালের কংগ্রেস প্রার্থী দিগ্বিজয় সিং।

যার কারণে নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নবানের মুখে পড়তে হয় স্বঘোষিত গডম্যান কম্পিউটার বাবাকে। কমিশনের পাঠানো নোটিশের জবাব দিয়ে কম্পিউটার বাবা বললেন, দিগ্বিজয় সিংকে যজ্ঞে তিনি আমন্ত্রণ জানান নি।

সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে জবাবদিহি করে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, দিগ্বিজয়কে যজ্ঞে আসার জন্য অনুরোধ জানাই নি এবং এই যজ্ঞ করতে যে খরচ হয়েছে তা দানধ্যান-অনুদান থেকে এসেছে।

“আমি জানিনা কেন দিগ্বিজয় এবং তার স্ত্রী যজ্ঞস্থলে এসেছিলেন না আমি তাঁদের সেখানে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তাছাড়া এই যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছিল অনুদান থেকে প্রাপ্ত অর্থ থেকে।” জবাবদিহি করে বলেন বাবা।

মধ্যপ্রদেশের ভোপালের সাইফিয়া কলেজ চত্বরে ৩ দিন ব্যাপী যজ্ঞানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন কম্পিউটার বাবা ওরফে নামদাস ত্যাগী। গেরুয়া বসন, মাথায় জটা, কপালে সুবিশাল তিলকধারী, গায়ে ছাই মাখা অবস্থায় সামনে খোলা ল্যাপটপ। এটাই চেহারার বর্ণনা স্বঘোষিত গডম্যানের। কম্পিউটার চালানোতে অত্যন্ত দক্ষ হওয়ায় তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘কম্পিউটার বাবা’ হিসেবে।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির হয়ে লড়তে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে তা হয়ে ওঠেনি। পরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দান করেন। পদ্মের প্রতীকেই বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে মধ্যপ্রদেশ থেকে বিধায়ক হন। মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান তাঁকে মন্ত্রীসভাতেও জায়গা দিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের বিরোধী হিসেবেই পরিচিত তিনি। এখন প্রচার করছেন কংগ্রেস প্রার্থীর। নির্বাচনে মঙ্গল কামনায় সহস্রাধিক সাধুকে সঙ্গী করে বসেছেন যজ্ঞে।

রাম মন্দিরের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। এই দল বদলের কারণ হিসেবে অযোধ্যা ইস্যুকেই কাঠগড়ায় তুলেছিলেন তিনি।

তাঁর কথায়, “বিজেপি পাঁচ বছর সরকারে ছিল। কিন্তু অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ করতে পারল না।” তাঁর স্পষ্ট জবাব ছিল, “যখন রাম মন্দির হয়নি, তখন মোদীকেও আর সমর্থন করা যাবে না।”