আসানসোল : আসানসোলের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য………” কবিতা আবৃত্তি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন। প্রধানমন্ত্রী বললেন, “বাংলা ও ভারতের জন্য রবীন্দ্রনাথের আদেশ ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’। আর দিদির অবস্থা চিত্ত যেথা ভয়াক্রান্ত।” পঞ্চম দফার নির্বাচন চলাকালীন আসানসোলের নির্বাচনী জনসভা থেকে এই ভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন নরেন্দ্র মোদী। জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করা নরেন্দ্র মোদীর কাছে কোনও নতুন ঘটনা নয়। তবে শনিবার নরেন্দ্র মোদী রীতিমতো রবীন্দ্রনাথের কবিতার লাইন উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমালোচনা করলেন তির্যক ভঙ্গিতে।

প্রধানমন্ত্রী এদিনের জনসভা থেকে বলেন, “দিদি আর সংঘাত নয়। আমরাই রাজ্যে ক্ষমতায় আসছি। সহযোগিতা করুন।” এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রসঙ্গে তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “দিদি, বাংলার মানুষ আপনাকে বিশ্বাস করে সুযোগ দিয়েছিলো। আপনি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছেন। আপনি নীতি আয়োগের সভায় যান না। দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আসেন। আপনি গঙ্গা দূষণ রোধের বৈঠকে আসেন না। অথচ সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আসেন। আসলে বাংলার মানুষের জন্য আপনার হাতে সময় নেই।”

এর পর চিরাচরিত ভঙ্গিতে নরেন্দ্র মোদী বলেন, “২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনে আপনার দল মালদা, মুর্শিদাবাদ সহ রাজ্যের সর্বত্রই সন্ত্রাসের পরিস্থিতি তৈরী করে। প্রার্থীরা মনোনয়ন পর্যন্ত জমা দিতে পারেননি। ভোট লুঠ হয়েছে ভোট। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে লজ্জার ঘটনা। তবে এবার দিদি ছাপ্পা দিতে পারছে না। দিদির মাস্তানি চলছে না। তাই দিদি সেনা বাহিনীর ওপর রেগে যাচ্ছে। বাংলার মানুষদের ভোটদানের অধিকার প্রয়োগ চলছে।”

তিন বছর আগে রাম নবমীর দিন আসানসোলে যে পরিস্থি হয়েছিল তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিন বছর আগের আসানসোলের রাম নবমীর ঘটনা মনে আছে? আসানসোলে কী হয়েছিল? গরিব মানুষরা, দোকানদারেরা সেই ঘটনায় ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তুষ্টিকরণের জন্য পুলিশ সেদিনের ঘটনায় নীরব হয়ে ছিল। এসব কেন হয়েছিল? উত্তর একটাই, দিদির জন্য। তাই সুশাসনের জন্য রাজ্যে আসল পরিবর্তন আসছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকার হবে রাজ্যে। ডাবল উন্নয়ন হবে। পশ্চিমবাংলায় দিদির সরকার উপযুক্ত নয়। এই রাজত্বে বাংলার মহিলাদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। ধর্ষণের বিচারের জন্য ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্ট করতে বলেছিলাম। দিদি করেননি। সব রাজ্যে হয়েছে। আমরা মহিলাদের উন্নয়নের জন্য সমানভাবে কাজ করতে চাই। আমরা মহিলাদর সুরক্ষিত রাখি। বাংলার মানুষ আপনাকে ভূতপূর্ব মুখ্যমন্ত্রী সার্টিফিকেট দেবেন। হেরে যাচ্ছেন বলে আপনি রেগে যাচ্ছেন?”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.