স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: যে সিঙ্গুর আন্দোলনে ভর করে ২০১১ সালে বিধানসভা ভোটে সাড়ে তিন দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই সিঙ্গুরই এবার লোকসভা ভোটে তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়েছে৷ রাজ্যের কৃষকদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে বুঝেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে নড়েচড়ে বসল তৃণমূল৷ কৃষকরা যাতে দিদিকে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে চলেছে তারা৷

দিদিকে বলো-প্রচারে রাজ্যজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছে তৃণমূল৷ এবার সেই প্রচার চাষের জমিতে পৌঁছে দিতে চাইছে তারা৷ আগামী ২৭ আগস্ট রাজ্যের সমস্ত খেত-খামারে একযোগে জনসংযোগে নামতে চলেছে তৃণমূলের কৃষক সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ কিষাণ ও খেত মজদুর ইউনিয়ন। আগামী দু’মাস ধরে সংগঠনের জেলা সম্মেলনের পর নভেম্বরে কলকাতায় কৃষক সমাবেশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ সংগঠনের রাজ্য সভাপতি বেচারাম মান্না বলেন, যেহেতু এখন জোরকদমে ধান চাষ শুরু হয়েছে, এই সময় চাষিরা খেতের কাজে ব্যস্ত থাকবে। তাই ‘দিদিকে বলো’র হেল্প লাইন নম্বর সহ কার্ড, ব্যাজ ইত্যাদি প্রচার সামগ্রী নিয়ে সংগঠনের কর্মীরাই পৌঁছে যাবে মাঠে।

বেচারাম মান্না বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে চলেছে। ঋণের জালে জড়িয়ে কৃষক সমাজ বিপন্ন। ব্যতিক্রম একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ। তাঁর দাবি, কৃষকদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়েছেন। সেইসব প্রকল্পে রাজ্যের কৃষক সমাজ উপকৃত। তাদের আয়ের পরিমাণও বেড়েছে। তাদের কাছে এসব উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুফল যথাযথ পৌঁছচ্ছে কি না, সেদিকে নজর দিতে বলেছেন তৃণমূল নেত্রী।

উল্লেখ্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধে পাইয়ে দিয়ে দলের বহু নেতা কাটমানি খাচ্ছেন সে খবর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রয়েছে৷ ইতিমধ্যেই সেইসব নেতা-কর্মীদের কাটমানি ফেরৎ দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ যা নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে রাজ্যে৷ রাজ্যের কৃষকরাও এই ধরণের সমস্যায় পড়েছেন কিনা সেটা তাঁদের সঙ্গে কথা বলে বুঝে নিতে চাইছেন মমতা৷ যদি সেই ইঙ্গিত পান তাহলে নিজেই কথা বলে কৃষদের ক্ষোভ মেটানোর চেষ্টা করবেন তিনি৷ সেইকারণেই দিদিকে বলোর- প্রচার সরাসরি চাষের মাঠে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷

বেচারাম জানিয়েছেন, সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে জেলায় জেলায় সম্মেলন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সব জেলা সম্মেলন শেষ করতে হবে। নভেম্বরের ১৪ তারিখ কলকাতায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে রাজ্য কৃষক সমাবেশ হবে। ওই সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীকে থাকার জন্য আবেদন জানাবে দলের কৃষক সংগঠন।