স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: লোকসভা নির্বাচন কড়া নাড়ছে দোরগোড়ায়৷ আগামি ১১ এপ্রিল কোচবিহারে প্রথম দফাতে ভোট৷ তার আগে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার পর্ব তুঙ্গে৷ বাংলাকে পাখির চোখ করে গা ঝাড়া দিয়ে প্রচারে গেরুয়া শিবির৷ উত্তরবঙ্গে গত ৩ এপ্রিল একপ্রস্থ প্রচার সেরে গিয়েছে মোদী৷

সেদিনই বিকেলে কোচবিহার থেকে মোদীকে পাল্টা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আজ ৭ এপ্রিল ফের কোচবিহারেই হাজির হলেন মোদী৷ রাসমেলার মাঠ, যেখানে আজ দুপুরেই সভা রয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর, সেই মাঠ থেকেই তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে গেলেন তিনি৷

চাকরি থেকে, ভোট ব্যাংকের রাজনীতি, হিংসা থেকে উন্নয়নে বাধা, তৃণমূল কংগ্রেসকে একের পর এক ইস্যু নিয়ে বিঁধলেন তিনি৷ পাশাপাশি কোচবিহারের জনগণকে তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করে বাংলা তথা দিল্লিতে বিজেপিকে সমর্থনের জন্য আহ্বান জানালেন তিনি৷

পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর মতো বরের দরকার নেই: মানিক সরকার

রাসমেলার মাঠ থেকে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে মমতার সরকারকে বিঁধতে গিয়ে তুলে আনলেন ত্রিপুরায় বামেদের শাসনের কথাও৷ তিনি বলেন, ‘ত্রিপুরাতে অরাজকতা চালিয়েছে বামফ্রন্ট৷ রাজ্যেও একই কাজ করে চলেছেন দিদি৷ ত্রিপুরার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তা সহ্য করেছে৷ তারা পরিবর্তন চেয়েছিল মনে মনে, আর তার জন্য মুখ বুজে অপেক্ষাও করেছে৷ আর যখনই সেই সময় এসেছে তারা বদলে দিয়েছে পরিস্থিতি৷ তাঁরা ত্রিপুরার দায়িত্ব দিয়েছে গেরুয়া শিবিরকে৷ আমরা ত্রিপুরায় বামেদের মডেল গ্রহণ করিনি৷ জোর দিয়েছি উন্নয়নের ওপর৷ ত্রিপুরায় বামেদের এই মডেলই এবার এই রাজ্যে অনুসরণ করছেন দিদি৷ সারদা-নারদায় রাজ্যকে জর্জরিত করেছেন৷ দেশের ভালোর জন্য এনআরসি-সিটিজিনেশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল নিয়ে এসেছে বিজেপি৷ কিন্তু দিদি সেখানেও স্পিডব্রেকারের কাজ করছে৷’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলার জনগণ স্থির করে ফেলেছে৷ বাংলায় আর তোলাগিরি বা গুন্ডাগিরি কোনওটাই চলবে না৷ কারও ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই৷ যে ঢেউ এখানে উঠেছে তা দিদিকে ধ্বংস করেই ছাড়বে৷ আপনারা-আমরা বাম এবং তৃণমূলের গুন্ডারাজ থেকে মুক্ত করব৷ আপনাদের ভোট এই চৌকিদারকে, এই দেশকে শক্তিশালী করবে৷’

পড়ুন: দেশদ্রোহীদের সমর্থন করছেন দিদি: মোদী

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সাল থেকে পর পর ছটি সংসদীয় নির্বাচনে ত্রিপুরা থেকে দুটি আসনেই জয়লাভ করেছে সিপিএম। ত্রিপুরার নির্বাচনে বামফ্রন্টের থেকে ক্ষমতা দখলের পর এবার বিজেপির নজরে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন। সিপিএম-এর দুটি লোকসভা আসনও নিজেদের দখলে আনতে বদ্ধপরিকর ত্রিপুরা বিজেপি। যদিও বিজেপির জোট শরিক আইপিএফটি সরাসরি দুটি আসনে প্রার্থী দিয়ে লড়াইয়ে নেমেছে৷