সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় : হলিউডে ছবি করার জন্য পাঠানো সত্যজিৎ রায়ের ‘দি এলিয়েন’ নামের চিত্রনাট্যের সঙ্গে অদ্ভুত রকম মিল দেখা গিয়েছিল স্টিভেন স্পিলবার্গের ই.টি. (দ্য এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল) ছবির৷

কল্পবিজ্ঞানকে ভিত্তি করে ১৯৬৭ সালে সত্যজিৎ রায় এই চিত্রনাট্যটি লিখেছিলেন৷ তার আগে সন্দেশ পত্রিকায় তিনি ১৯৬২ সালে একটি গল্প লিখেছিলেন ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ ৷ আর ওই কল্পবিজ্ঞানের গল্পটিকে অবলম্বন করে ‘দি এলিয়েন’ নামে ছবির জন্য চিত্রনাট্য লেখেন তিনি৷

পরিকল্পনা করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের যৌথ প্রযোজনার এই ছবিটির করার৷ ফলে সেজন্য প্রযোজক ছিল কলোম্বিয়া পিকচার্স এবং ইসমাইল মার্চেন্ট ৷ তাছাড়া পিটার সেলার্স ও মার্লোন ব্রান্ডোদের ছবিটির প্রধান অভিনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। ১৯৬৪ সালেই বিখ্যাত কল্পবিজ্ঞান লেখক আর্থার ক্লার্কের সঙ্গে সত্যজিৎ রায়েরএই চিত্রনাট্যের বিষয় নিয়ে চিঠিপত্র আদানপ্রদান হতে থাকে ৷ কিন্তু চিত্রনাট্য লেখা শেষ করার পর সত্যজিৎ জানতে পারেন যে সেটির স্বত্ব তার নয় ও এর জন্য তিনি কোন সম্মানও পাবেন না। পরবর্তীকালে মার্লোন ব্র্যান্ডো প্রকল্পটি ত্যাগ করেন। তাঁর জায়গায় জেমস কোবার্নকে আনার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু ততদিনে সত্যজিতের আশাভঙ্গ ঘটে এবং তিনিও হতাশ হয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন।

এরপরে ৭০ ও ৮০-র দশকে কলোম্বিয়া বহুবার প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। এদিকে ১৯৮২ সালে যখন স্টিভেন স্পিলবার্গের ই.টি. (দ্য এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল) মুক্তি পায় ৷ তখন ছবিটি দেখার পর দেড় দশক আগে সত্যজিতের লেখা চিত্রনাট্যের মিল খুঁজে পান অনেকেই, যাদের মধ্যে ছিলেন আর্থার ক্লার্ক ৷ সত্যজিৎ ১৯৮০ সালে বিদেশি ম্যাগাজিনে লেখা একটি ফিচারে প্রকল্পটির ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেন ও পরে সত্যজিতের জীবনীকার অ্যান্ড্রু রবিনসন এ ঘটনার ওপর আরও বিস্তারিত লেখেন (১৯৮৯ সালে প্রকাশিত দি ইনার আই-বইটিতে)।

সত্যজিৎ বিশ্বাস করতেন, তাঁর লেখা ‘দি এলিয়েন’ -এর চিত্রনাট্যটির মাইমোগ্রাফ কপি সারা যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে না পড়লে স্পিলবার্গের ছবিটি বানানো হয়ত সম্ভব হত না। যদিও স্পিলবার্গ এই অভিযোগ মানতে রাজি নন৷ তাঁর যুক্তি ছিল, যখন হলিউডে এই চিত্রনাট্যটি ঘুরছে সে সময় তিনি ছবির জগতের পক্ষে নেহাত শিশু কারণ তখন তিনি হাইস্কুলের ছাত্র৷