স্টাফ রিপোর্টার, ডায়মন্ডহারবার: মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরেই চালু হল নতুন কোভিড হাসপাতাল। আপাতত ২৪টি শয্যা নিয়ে চালু হলেও খুব শীঘ্রই হাসপাতালটি আশিটি শয্যাবিশিষ্ট করা হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালনির্মীয়মান চারতলা ভবনের দু’টি ফ্লোরকে ‘আইসোলেশন ওয়ার্ডে’ পরিণত করা হয়।

সেই আইসোলেশন ওয়ার্ডের দু’টি ফ্লোরকেই এবার কোভিড হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হল। বৃহস্পতিবার থেকে এই পরিষেবা চালু হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কোভিড হাসপাতালে ২২ জন রোগী ভরতি। জানা গিয়েছে, ৩০ লক্ষ টাকা খরচ আইসোলেশন ওয়ার্ডটিকেই কোভিড হাসপাতালের রূপ দেওয়া হয়।

করোনার উপসর্গ থাকা পুরুষ ও মহিলা রোগীদের জন্য আলাদা আলাদা ওয়ার্ডে ১২ টি করে মোট ২৪ টি শয্যা রয়েছে। এছাড়াও, ভবনের নীচের তলায় অক্সিজেন, ভেন্টিলেশন ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা-সহ ১৬ শয্যার সিসিইউ রয়েছে।

এই হাসপাতালে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অন্য কুড়িজন চিকিৎসক এই কোভিড হাসপাতালে রোগীদের পরিষেবা দেবেন। এছাড়াও মেডিক্যাল কলেজের কনাসালট্যান্ট চিকিৎসকরাও কাজ করবেন। হাসপাতালে নিয়োগ করা হয়েছে নতুন ২৬ জন নার্সকে। টেকনিশিয়ান ও হাসপাতালের অন্যান্য পরিষেবার জন্য মোট ৮ জনকে নিয়োগ হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন এবং চিকিৎসকদের দাবি, এই কোভিড হাসপাতাল গড়ে ওঠার ফলে ডায়মন্ড হারবার মহকুমার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও সুন্দরবন লাগোয়া নামখানা, সাগরদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, রায়দিঘী-সহ প্রত্যন্ত এলাকার করোনা আক্রান্ত রোগীদের আর কলকাতায় যেতে হবে না।

এই নতুন হাসপাতালেই তাঁরা চিকিৎসা করাতে পারবেন। উল্লেখ্য, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে নোদাখালি থানার আইসি অনিন্দ্য বসুর (৪৫)। বুধবার গভীর রাতে ইএম বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান তিনি।

এদিকে, করোনা ভাইরাসে জন্য এবছর গঙ্গাসাগর মেলায় তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী কোভিড হাসপাতাল। সেখানে আইসোলেশন ওয়ার্ড, আসিইউ-সহ অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকবে।

করোনার উপসর্গ থাকলেই তাঁকে হাসপাতাল কিংবা সেফ হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। করোনা রোগীদের বাড়িতে ফেরত পাঠানোর জন্য পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্স থাকবে। সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রত্যেককে মাস্ক পরতে হবে। এই নিয়ম মানতে হবে সাধু-সন্ন্যাসীদেরও।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।