তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সরকারি হাসপাতালে ‘ডায়ালিসিসে’র প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার অভিযোগ উঠল। ‘ডায়ালিসিসে’র প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় ঘোর বিপাকে পড়েছেন হার্টের সমস্যা নিয়ে ভর্তি থাকা রোগীরা। চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন রোগীর আত্মীয়েরাও।

বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে কিডনির সমস্যা নিয়ে ভর্তি থাকা রোগীদের একাংশের আত্মীয়দের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও ডায়ালিসিস হচ্ছে না। তবে হাসপাতালের কর্মীদের একাংশের আত্মীয়দের ক্ষেত্রে সেই সমস্যা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

বিষ্ণুপুর হাসপাতালে ভরতি স্থানীয় বাসিন্দা সুচিত্রা দের স্বামী। সুচিত্রা দে জানালেন, ৩০ ডিসেম্বর রাতে তাঁর স্বামী শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে বিষ্ণুপুর হাসপাতালে ভর্তি হন। মাঝে একবার ডায়ালিসিস হলেও পরে আর হয়নি। আর এক রোগীর আত্মীয় সুলেখা চৌধুরী আবার হাসপাতালে ডায়ালিসিস নিয়ে স্বজনপোষণের অভিযোগ তুললেন। তাঁর অভিযোগ, বেছে-বেছে বিশেষ কয়েকজনের ডায়ালিসিস হচ্ছে সরকারি এই হাসপাতালে। কিন্তু সাধারণ রোগীদের সেই পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে না। হাসপাতালে ডায়ালিসিসের যন্ত্রপাতির অভাবের অজুহাত দিয়ে রোগীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।

প্রতিদিন বাঁকুড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু রোগীকেই নিয়ে যাওয়া হয় বিষ্ণুপুর হাসপাতালে। কিন্তু গত বেশ কয়েকদিন ধরেই ডায়ালিসিস করাতে গিয়ে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে রোগীদের। অপেক্ষাকৃতভাবে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল রোগীরা বাড়তি টাকা খরচ করে অন্যত্র ডায়ালিসিস দেওয়ার বন্দোবস্ত করছেন। কিন্তু একটি বড় অংশের রোগীদের আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় হাসপাতালের দিকেই এখনও তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা। কবে হাসপাতালে ফের স্বাভাবিক হবে ডায়ালিসিস পরিষেবা তা নিয়েই এখন ঘোর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বহু রোগীর।

এদিকে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য দিব্যেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্যের সরকারি হাসপাতা গুলিতে এখন পরিষেবা যথেষ্ট ভালো। তারপরেও এক শ্রেণীর অসাধু চক্র রোগীর আত্মীয়দের হয়রানি করছে। বিষয়টি হাসপাতাল সুপারকে জানিয়েছি৷’

অন্য়দিকে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রামাণিক জানান, বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ডায়ালিসিসের যন্ত্রের অভাবের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।