হায়দরাবাদ: নিজামের শহরে বিশ্বকাপের মহড়া সিরিজের প্রথম ম্যাচে মসৃণ জয় ভারতের। টি-টোয়েন্টি সিরিজে পর্যুদস্ত হতে হলেও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে ওয়ান ডে সিরিজে দুর্দান্ত শুরু চেয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। প্রত্যাশা পূরণ করে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে জয় তুলে নিল বিরাটবাহিনী। অর্ধশতরান করে দলকে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দিয়ে ম্যাচ জয়ের কান্ডারি মহেন্দ্র সিং ধোনি ও কেদার যাদব। দুজনের অবিভক্ত ১৪১ রানের পার্টনারশিপে ভর করে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেন টিম ইন্ডিয়া।

কেদার যাদবের ম্যাচ জেতানো দুরন্ত ইনিংস সঙ্গে বিপদের সময় মহেন্দ্র সিং ধোনির ত্রাতা হয়ে ওঠার আগে প্রথমার্ধে দলকে এদিন ভরসা জোগান ভারতীয় বোলাররা। তাদের আটোসাঁটো বোলিংয়ে হায়দরাবাদের উপল স্টেডিয়ামে এদিন বিশেষ মাথা তুলতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা। ব্যাটসম্যানরা ম্যাচ ফিনিশ করলেও ম্যাচ জয়ের প্ল্যাটফর্ম যে সেট করে দিয়েছিলেন বোলাররাই, ম্যাচ শেষে স্বীকার করে নিলেন অধিনায়ক কোহলি।

দুটি উইকেট পেলেও বুমরাহ এদিন রান খরচের বিষয়ে একটু উদার ছিলেন অজি ব্যাটসম্যানদের কাছে। তবে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে কখনোই ভয়ংকর হতে দেননি মহম্মদ শামি, কুলদীপ যাদব কিংবা রবীন্দ্র জাদেজারা। স্টপগ্যাপ বোলার হিসেবে নিয়ন্ত্রিত বোলিং সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি উইকেট তুলে নিলেন কেদার যাদবও। বুমরাহর পাশাপাশি দুটি করে উইকেট নিলেন শামি এবং যাদব। উইকেট না পেলেও ১০ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে সবচেয়ে কৃপণ এদিন ছিলেন জাদেজাই।

ফিঞ্চ শূন্য রানে ফিরে যাওয়ার পর স্টোইনিসের সঙ্গে আরেক ওপেনার খোয়াজার ৮৭ রানের পার্টনারশিপে কিছুটা জাঁকিয়ে বসে ক্যাঙ্গারু বাহিনী। কিন্তু এরপর আর কোনও জুটিকে দানা বাঁধতে দেননি ভারতীয় বোলাররা। খোয়াজার ৫০, স্টোইনিসের ৩৭ ছাড়াও ম্যাক্সওয়েলের ৪০ এবং উইকেটকিপার ক্যারের অপরাজিত ৩৬ রানে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৩৬ রান তুলতে সমর্থ হয় অস্ট্রেলিয়া।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি টিম ইন্ডিয়ার। দলীয় ৪ এবং ব্যক্তিগত শূন্য রানে সাজঘরে ফিরে যান শিখর ধাওয়ান। রোহিত-কোহলির জুটিতে ৭৬ রান উঠলেও দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে একসময় বিপাকে পড়ে যায় ‘মেন ইন ব্লু’। অর্ধশতরান থেকে ছয় রান দূরে প্যাভিলিয়নে ফেরেন অধিনায়ক বিরাট। রোহিতের ব্যাট থেকে আসে ৩৭ রান। এরপর রায়ডু ১৩ রান করে আউট হলে দলের হাল ধরেন যাদব-ধোনি।

পরিস্থিতি বুঝে ম্যাচের বাকি সময়টা কামিন্স-স্টোইনিস-জাম্পাদের রীতিমত শাসন করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। ধোনির সঙ্গে জুটি বেঁধে যাদবের এদিনের ব্যাটিং বিশ্বকাপের আগে ভরসা জোগাবে মিডল অর্ডারকে। ৮৭ বলে ম্যাচ জেতানো ৮১ রানের ইনিংস খেলে দলকে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দেন যাদব। তাঁর নিখুঁত ইনিংস সাজানো ছিল ন’টি চার ও একটি ছয়ে। যোগ্য সঙ্গী হিসেবে যাদবের পাশে এদিন বিশ্বকাপের আগে আরও একবার দলের ত্রাতা হয়ে উঠলেন মাহি।

কেরিয়ারের ৭১ তম অর্ধশতরান পূর্ণ করার দিনে ৭২ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেললেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। শেষ অবধি দুই ব্যাটসম্যানের হার না মানা ১৪১ রানের জুটিই ১০ বল বাকি থাকতে প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে জয় এনে দেয় ভারতকে। ম্যাচের সেরা কেদার যাদব। ৫ মার্চ নাগপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি দুই দল।